শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপকের মৃত্যু
বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শুক্রবার (অক্টোবর ৯) বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।তিনি জানান,“সকালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁকে দ্রুত ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।”সাহিত্যপ্রেমী পাঠক, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব—যিনি একাধারে শিক্ষক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক এবং চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবী।জাতীয় কবিতা পরিষদের উদ্যোগে শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন মাজহারুল ইসলাম।অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কর্মজীবন ও অবদানসৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় চট্টগ্রামে, পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।একজন প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে —বিশ্ববিদ্যালয়,বিদেশে বাড়ি নেই,সীমান্তের বাড়ি,একজন রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য প্রভৃতি।তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে সমাজ, মানবতা, শহুরে জীবনের সংকট ও সংস্কৃতির বিবর্তন।সাহিত্যজগতে শোকের ছায়াবাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ, সাহিত্যিক মহল ও পাঠকসমাজ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু সাহিত্যপ্রেমী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাঁকে স্মরণ করছেন ‘একজন সৎ শিক্ষক, নিরহঙ্কার মানুষ ও চিন্তাবিদ’ হিসেবে।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে নতুন প্রজন্ম।