বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব রাশিয়ার তেল শিল্পে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রধান দুটি তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকঅয়েল-এর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৮% এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৫.১% বৃদ্ধি পায়।বিশ্লেষকদের মতে, এটি বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-ও রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে। গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট-এর বিশ্লেষক আর্ন লোহম্যান রাসমুসেন বলেন, “এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোর বাস্তব প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”বিশ্লেষকদের মতে, রসনেফট ও লুকঅয়েল মিলে রাশিয়ার মোট তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স জানায়, “এ পদক্ষেপ আগামী বছর বিশ্ব তেলবাজারে ঘাটতি তৈরি করতে পারে,” তবে তারা মনে করে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞা কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয় তার ওপর।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে তারা দাবি করেছে,“রাশিয়া ইতিমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে।”এদিকে,ট্রাম্প বলেছেন,ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কমাতে রাজি হয়েছে। যদিও নয়াদিল্লি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়,মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।ট্রেড নেশনের বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন বলেন,“রসনেফট ও লুকঅয়েল প্রতিদিন প্রায় চার মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।ভারত যদি তাদের তেল আমদানি কমায়,তবে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”যেকোনো সংবাদ সবার আগে পেতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে