হাইপারপিগমেন্টেশন: কারণ লক্ষণ ও কার্যকর চিকিৎসা
মানুষের স্বাভাবিক ত্বকের রঙের চেয়ে কোনো অংশ যদি গাঢ়, বাদামি বা ধূসর হয়ে যায়, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাইপারপিগমেন্টেশন বলা হয়। ত্বকের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোক, হরমোনজনিত সমস্যা, ওষুধের প্রভাব, অ্যালার্জি বা আঘাতের পর ত্বকের নির্দিষ্ট স্থানে মেলানিন বেশি উৎপন্ন হলে সেই অংশ কালো হয়ে যায়।
হাইপারপিগমেন্টেশন কীভাবে হয়ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. আসমা তাসনীম খান জানান, শরীরের যেকোনো অংশেই রং পরিবর্তন হতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, হরমোনের পরিবর্তন, প্রসাধনী বা কেমিকেল এক্সপোজার, ড্রাগ রিঅ্যাকশন, একজিমা, ব্রণের চিকিৎসা, অতিরিক্ত ঘর্ষণ, সবই ত্বকে গাঢ় দাগ সৃষ্টি করতে পারে। কারো ক্ষেত্রে ত্বকের ভাঁজ, আন্ডারআর্মস বা ঘাড়ের মতো স্থানে ঘর্ষণের কারণে দাগ আরও বেশি স্পষ্ট হয়।
কোন ধরনের পিগমেন্টেশন সবচেয়ে সাধারণ?বিশেষজ্ঞদের মতে;
সাধারণত দেখা যায় যে সমস্যাগুলো:মেলাসমা বা মেছতা, মুখে বাদামি ছোপসান ট্যান, সূর্যের আলোতে ত্বক ডার্ক হয়ে যাওয়াছোট ছোট তিল বা ফ্রিকেলসআঘাত বা প্রদাহের পর কালো দাগ (Post-inflammatory pigmentation)ওজনজনিত কারণে ঘাড় কালো হওয়াআঁটসাঁট পোশাকের ঘর্ষণে ত্বক কালো হওয়াচিকিৎসায় কী কী ব্যবহৃত হয়?ডা. আসমা জানান, কোন ধরনের পিগমেন্টেশন তার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মেলাসমার ক্ষেত্রে মুখে লাগানোর ওষুধ, ভিটামিন, সানস্ক্রিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেওয়া হয়। ত্বকের উপরের ও মাঝের স্তরে জমা পিগমেন্ট ভালোভাবে কমে, তবে গভীর স্তরের পিগমেন্টেশন সম্পূর্ণ সারানো কঠিন।
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিলেজার ট্রিটমেন্ট (Q-switch, Pico laser)CO₂ লেজার ও ইলেকট্রো সার্জারি (তিল দূর করতে)কেমিক্যাল পিলিংমেসোথেরাপি ইনজেকশনভিটামিন সি, রেটিনল, নিয়াসিনামাইড, আলফা আরবুটিনহাইড্রোকুইনোন ও ট্রিটিনয়েন মতো ওষুধও ব্যবহৃত হয়, যা অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শে নিতে হয়।
প্রতিরোধে কী করতে হবে?সানস্ক্রিনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৫০ সানস্ক্রিন ব্যবহাররোদে থাকলে প্রতি ২–৩ ঘণ্টায় পুনরায় লাগানোগলা, হাত, চোখের চারপাশ, ঠোঁটেও সানস্ক্রিন ব্যবহারফুল হাতা, হালকা রঙের সুতির পোশাকছাতা বা টুপি ব্যবহারত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন বেছে নেওয়াফল মিলবে কতদিনে?ত্বকের কোষ নবায়নে সময় লাগে, তাই চিকিৎসায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে ৩–৬ মাস পর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার ছাড়া এই দাগ স্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব নয়।[968]ত্বকে রং পরিবর্তন বা দাগ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে কারণ বুঝে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, সঠিক চিকিৎসা ও ত্বকের যত্ন নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাইপারপিগমেন্টেশন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।