দুর্গাপূজায় সরকারি অনুদান বৃদ্ধি: এবার ৫ কোটি টাকা অনুমোদিত
ঢাকার রমনা
এলাকায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
গতকাল একটি প্রেসব্রিফিংয়ে ঘোষণা করেছেন যে, এবারের দুর্গাপূজা
অনুদান ২০২৫ হিসেবে পুজনমণ্ডপগুলোকে মোট ৫ কোটি টাকা অনুদান প্রদান
করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আয়োজনকে ঝামেলামুক্ত ও নিরাপদ রাখতে অতিরিক্ত
কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে তা সরকারের তাত্ক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।“উৎসবটি
নিরাপদ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়াই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার,”
উপদেষ্টা বলেন।
অনুদান ইতিহাস
– ১৫ বছরের অগ্রগতি
বছরপ্রদানকৃত
অনুদান মন্তব্য ২০১১‑২০২৫ ২ কোটি টাকা (মোট ১৫ বছরে) প্রাথমিক
পর্যায়ে সীমিত তহবিল ২০২৪ ৪ কোটি টাকা পূর্ব
বছরের তুলনায় ২ গুণ বৃদ্ধি ২০২৫ ৫ কোটি টাকা সর্বোচ্চ
অঙ্গীকার, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি জোরদার বর্ধিত অনুদানটি স্থানীয় পুজনমণ্ডপ ও আয়োজন কমিটির নিরাপত্তা, কাঠামোগত
সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের মানোন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখবে।[98]নিরাপত্তা ও মনিটরিং – ২৪ ঘণ্টা নজরদারিবিধি-বহুল আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর মোতায়েন – পুজনমণ্ডপের চারপাশে
সশস্ত্র পুলিশ, র্যানডম প্যাট্রোল এবং নগর নিরাপত্তা দলে অতিরিক্ত ব্যারিকেড
স্থাপন করা হবে।নতুন
‘মন্তরন’ অ্যাপ – একটি সরকারিভাবে
ডেভেলপ করা মনিটরিং অ্যাপ চালু করা হয়েছে।ব্যবহারকারীরা
রিয়েল‑টাইমে যে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা (অগ্নিকাণ্ড, অতিরিক্ত ভিড়, ভণ্ডামি)
সরাসরি নিরাপত্তা বিভাগের কাছে পাঠাতে পারবেন।
অ্যাপটি
২৪ ঘণ্টা সর্বদা সক্রিয়
থাকবে, ফলে ত্রুটিপূর্ণ পরিস্থিতি দ্রুততরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব।গুজবের
বিরুদ্ধে সতর্কতা – উপদেষ্টা সবকে “গুজবে
কান না দেওয়া” এবং “সতর্ক থাকাই নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি” বলার মাধ্যমে
সামাজিক সংহতি জোরদার করেছেন।
আয়োজনের পরিধি – সুন্দর ও সুষ্ঠু উৎসব
সৌন্দর্যপূর্ণ সংস্কৃতি: পুজনমণ্ডপের
আলোকসজ্জা, পুঁথি ও রঙিন সাজসজ্জা অতিরিক্ত বাজেটের অংশ হিসেবে উন্নীত করা
হবে।
অংশগ্রহণকারীর
সহযোগিতা:
দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পার্কিং, প্রবেশপথ ও
জরুরি নির্গমন রুটে স্বেচ্ছাসেবক ভূমিকা থাকবে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ: উপদেষ্টা সকলকে
মানসিক শান্তি বজায় রেখে, হিংসা, নিন্দা এবং অযথা গুজবে জড়িয়ে না পড়ার
অনুরোধ জানিয়েছেন।স্থানীয় কমিটির সহযোগিতা – সমন্বিত প্রচেষ্টারমনা এলাকায়
অনুষ্ঠিত বিশেষ ব্রিফিংয়ে নিম্নলিখিত প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন:মন্দির কমিটির সভাপতিসাধারণ
সম্পাদকবাংলাদেশ
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রতিনিধিরাবক্তারা
সমবেতভাবে উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিটির সক্রিয়
সমর্থন জানান। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি
গ্রুপগুলো নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও ত্রুটি রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ দুর্গাপূজাদুর্গাপূজা
অনুদান ২০২৫ এর মাধ্যমে সরকার শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, উন্নত
মনিটরিং সিস্টেম এবং ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনাও প্রদান করেছে। এই সমন্বিত
প্রচেষ্টা নিশ্চিত করবে যে, রমনা এলাকার উৎসবটি নিরাপদ,
সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।“একত্রে কাজ
করলেই আমরা আনন্দময়, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উপভোগ করতে পারি,” উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সংক্ষেপে বললেন।আপনারা সকলেই এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের অংশ—অনুগ্রহ করে গুজবে না গিয়ে,
নিরাপত্তা বজায় রেখে, এবং পারস্পরিক সম্মান দিয়ে উৎসবকে সফল করুন।[119]