নাসার এক বছরের মঙ্গল সিমুলেশন মিশন
হিউস্টন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ – নাসা এবার বাস্তবমুখী মঙ্গল অভিযানের জন্য এক নতুন পরীক্ষা চালাচ্ছে,
যেখানে ৪ জন গবেষক ৩৭৮ দিনের জন্য পৃথিবীতে অবস্থান করেও মঙ্গল গ্রহে থাকবেন বলে
ভাববেন! চাঁদ ও মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদী মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ
দিতে, নাসা তার দ্বিতীয় ক্রুকে এক বছরের জন্য একটি সিমুলেটেড মঙ্গল আবাসস্থলে
পাঠাচ্ছে। এটি শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা নয়, বরং মানবজাতির মঙ্গল অভিযানের
প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ৩৭৮ দিনের মিশনে ৪ জন গবেষক সম্পূর্ণ
সিল করা ১,৭০০ বর্গফুট এলাকায় অবস্থান করে ভবিষ্যতের মহাকাশচারীদের শারীরিক ও
মানসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংগ্রহ করবেন। এই মিশন
নভোচারীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিশন: মঙ্গলে বসবাসের বাস্তবসম্মত মহড়ামঙ্গল গ্রহে দীর্ঘ সময়
বসবাসের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক প্রভাব বোঝার জন্য নাসা এই সিমুলেশন পরিচালনা
করছে। ক্রুরা এমনভাবে জীবনযাপন করবেন যেন তারা সত্যিই বহু আলোকবর্ষ দূরে লাল গ্রহে
অবস্থান করছেন। ৩৭৮ দিন ধরে তারা হিউস্টনে অবস্থিত ১,৭০০ বর্গফুট এলাকার মধ্যে সিল
অবস্থায় থাকবেন। পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ সীমিত থাকবে এবং সরবরাহের ক্ষেত্রেও থাকবে
নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা। এর লক্ষ্য হলো বাস্তবমুখী সত্যিকারের মঙ্গল অভিযানের প্রায়
হুবহু পরিস্থিতি তৈরি করা।ক্রুরা এই সিমুলেশনে
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করবেন যেমন: মঙ্গলের মাটি পরীক্ষা, খাদ্য উৎপাদন
পদ্ধতি, বায়ুচলাচল পর্যবেক্ষণ এবং মনোবিজ্ঞান পরীক্ষা। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)
হেডসেট ও ট্রেডমিল ব্যবহার করে তারা মঙ্গলের বাস্তব অভিযানের অভিজ্ঞতা অর্জন
করবেন।
দুঃসাহসী ক্রু: কারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন?নাসা এই
গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য চারজন অভিজ্ঞ গবেষক নির্বাচন করেছে, যারা
প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ:রস এল্ডার (Ross Elder): ক্রু কমান্ডার, মার্কিন
বিমান বাহিনীর প্রধান এবং পরীক্ষামূলক পাইলট।এলেন এলিস (Ellen Ellis): মেডিকেল অফিসার, কর্নেল এবং অধিগ্রহণ কর্মকর্তা।ম্যাথিউ মন্টগোমারি (Matthew Montgomery): বিজ্ঞান কর্মকর্তা, হার্ডওয়্যার
ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শদাতা।জেমস স্পাইসার (James Spicer): ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা
শিল্পের প্রযুক্তি পরিচালক।এই উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন দলটি
মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশের সিমুলেশন মোকাবিলায় তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার
করবে।
মঙ্গলের জীবন: দৈনন্দিন কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ
সিমুলেশন মিশনে ক্রুরা
মঙ্গলের বাস্তবমুখী পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের
মধ্য দিয়ে যাবেন। তাদের দৈনন্দিন রুটিনে থাকবে:
খাবার ও জলের সীমাবদ্ধতা: সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে
জীবনযাপন।
সিমুলেটেড মঙ্গল অভিযান: VR হেডসেট ও ট্রেডমিলের
মাধ্যমে 'মঙ্গলের মাটিতে' হাঁটাচলা।
গবেষণা ও ব্যায়াম: বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা
এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম।
আবাসস্থল রক্ষণাবেক্ষণ: আবাসস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ ও
ত্রুটি মেরামত।
এই কার্যক্রম ক্রুরা মানসিক
স্থিতিশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক, যা
ভবিষ্যতের প্রকৃত মঙ্গল অভিযানের জন্য অপরিহার্য।তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক, যা ভবিষ্যতের প্রকৃত মঙ্গল অভিযানের জন্য অপরিহার্য।
কেন এই মিশন এত গুরুত্বপূর্ণ?নাসার এক বছরের মঙ্গল সিমুলেশন মিশন মানবজাতির মহাকাশ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:ভবিষ্যৎ মিশনের প্রস্তুতি: চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের জন্য মহাকাশচারীদের দীর্ঘ সময় মহাকাশে ও অন্য গ্রহে অবস্থানের প্রস্তুতি।মানবদেহ ও প্রযুক্তি অধ্যয়ন: দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অধ্যয়ন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ।সহনশীলতা বৃদ্ধি: শারীরিক ও মানসিক সহনশীলতা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ।এই ডেটা ভবিষ্যতের মহাকাশযান ডিজাইন, মিশন পরিকল্পনা ও মহাকাশচারী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নাসার এক বছরের মঙ্গল সিমুলেশন মিশন কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ গবেষণার এক বিশাল পদক্ষেপ। এটি ভবিষ্যতের মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি এবং মহাকাশে জীবন ধারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এই সাহসী ৪ জনের যাত্রা আমাদের মঙ্গলে পৌঁছানোর স্বপ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।[72]