ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত সপ্তাহ কাটিয়ে সোমবার রাতে লা লিগায় মুখোমুখি হয়েছিল রায়ো ভায়েকানো ও রিয়াল বেতিস। দুই দলেরই লক্ষ্য আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান আসরে জায়গা করে নেওয়া, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কনফারেন্স লিগ বা ইউরোপা লিগই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।ম্যাচের শুরুটা ছিল কিছুটা এলোমেলো। বেতিসের ডিফেন্ডার দিয়েগো লরেন্তে ও রায়োর আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জর্জে দে ফ্রুতোস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দে ফ্রুতোসের চোটটি গুরুতর মনে হওয়ায় ভ্যালেকাসে দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে রায়ো ভায়েকানো। পেছনের পোস্টে পচা এসপিনো গোলের খুব কাছে পৌঁছালেও শেষ স্পর্শে ব্যর্থ হন।৩০ মিনিটের পর বড় সুযোগ পান ইসি পালাসন, কিন্তু তার নিচু শট সহজেই রুখে দেন বেতিস গোলকিপার আলভারো ভায়েস। এরপর এক অবিশ্বাস্য মুহূর্তে খালি গোলের সামনে বল পেয়েও ইসি পালাসন, নোবেল মেন্ডি ও আলভারো গার্সিয়া—তিনজনই গোল করতে ব্যর্থ হন। কোচ ইনিগো পেরেস হতাশায় মাথা নাড়তে থাকেন।দ্বিতীয়ার্ধেও শুরুতে ম্যাচের গতি ছিল ধীর। তবে এক ঘণ্টা পেরোতেই আক্রমণে আরও ধারালো হয়ে ওঠে রায়ো। বেতিসের রক্ষণভাগে বারবার চাপ তৈরি করতে হয় মার্ক বার্ত্রা ও নাতানকে।ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে ইসি পালাসনের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে—যা যেন রায়োর দুর্ভাগ্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়।যদিও বেতিস পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারা চারটি শট অন টার্গেট নেয় এবং রায়ো গোলকিপার অগুস্তো বাতাল্লাকে কয়েকবার পরীক্ষা নেয়। তবে শেষদিকে আক্রমণের দিক থেকে রায়ো ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়—ভ্যালেকাসে গোলহীন ড্র-ই নিয়তি।এই ড্রয়ের ফলে রায়ো ভায়েকানো লিগ টেবিলের ১৩ নম্বরে অবস্থান করছে। সপ্তম স্থানের দল থেকে তারা পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে, তবে অবনমন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্ট। লিগে রায়োর জয়হীন ধারা বেড়ে দাঁড়াল ছয় ম্যাচে।অন্যদিকে, এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট রিয়াল বেতিস। তারা ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, এসপানিওলের থেকে পাঁচ পয়েন্ট এবং চতুর্থ স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের থেকে নয় পয়েন্ট দূরে।