ভারতে বিজয়ের সমাবেশে ৫০ জন আহত
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে ঘটে গেল ভয়াবহ পদদলিতের ঘটনা। শনিবার করুর জেলায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনাতামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৩ জন পুরুষ, ১৭ জন নারী, ৪ জন ছেলে এবং ৫ জন মেয়ে। আহতদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ২৫ জন নারীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের বিলম্বিত আগমন এবং অতিরিক্ত ভিড় পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। বিকেল থেকেই হাজার হাজার মানুষ সমাবেশস্থলে অপেক্ষা করছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বিজয় আসার পর ভিড় আরও বাড়তে থাকে। পানীয় জল এবং খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।
ঘটনার সময়কার পরিস্থিতিস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিজয় মঞ্চে উঠে ভক্তদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি নিজেই পানির বোতল ছুঁড়ে দিতে থাকেন এবং পুলিশকে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।
বিজয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে X-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন:“আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমি অসহ্য কষ্ট ও বেদনা অনুভব করছি। করুরে প্রাণ হারানো আমার ভাই-বোনদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণমুখ্যমন্ত্রী স্টালিন নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি (প্রায় ১১,২৮০ ডলার) করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন। তাছাড়া ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে ত্রিচি ও সেলেম জেলা থেকে ৪৪ জন চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে।[352]
প্রেক্ষাপটএটি বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তার দলের প্রথম সভায়ও অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিশাল জনসমাগমের কারণে স্থানীয় প্রশাসন বারবার নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা আরোপ করলেও বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।