বিসিবি স্থায়ী কমিটিগুলোর দায়িত্ব যারা পেলেন
বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন নির্বাচনের পর গঠিত হয়েছে স্থায়ী কমিটিগুলোর
দায়িত্ব বণ্টন। সোমবার অনুষ্ঠিত বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে মোট ২৫ জন
পরিচালক নির্বাচিত হন। ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনয়ন পাওয়া ইশফাক আহমেদ বাদ পড়লেও বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম
বুলবুল। সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শাখাওয়াত হোসেন
ও ফারুক আহমেদ।মঙ্গলবার
অনুষ্ঠিত নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় স্থায়ী কমিটিগুলোর দায়িত্ব
বণ্টন সম্পন্ন হয়। সভায় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ
কমিটির দায়িত্ব নিজের হাতে রাখেন।সভাপতির তিন গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্ববুলবুল
হয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান, পাশাপাশি ওয়ার্কিং কমিটি
এবং গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে
অবকাঠামো ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে এই তিনটি কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে নবনির্বাচিত সভাপতির কাঁধে শুরু থেকেই বড় দায়িত্ব পড়েছে।তবে
বিসিবির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সহসভাপতি ফারুক আহমেদ কোনো স্থায়ী কমিটির
দায়িত্ব পাননি, যা অনেকের কাছেই কিছুটা বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।দায়িত্ব
বণ্টনে ভারসাম্যবিসিবির
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব
পেয়েছেন খ্যাতিমান কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। এই কমিটির
অধীনেই মূলত জাতীয় দলের সফর, ঘরোয়া ক্রিকেট পরিচালনা এবং ক্রিকেট কাঠামো উন্নয়ন
কার্যক্রম পরিচালিত হয়।অর্থনীতি
ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় নজরদারি করবে ফাইন্যান্স কমিটি, যার প্রধান করা হয়েছে
এম নাজমুল ইসলামকে। সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আমজাদ হোসেন।ডিসিপ্লিনারি
কমিটির প্রধান হয়েছেন ফায়াজুর রহমান, যিনি ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা
রক্ষা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন। অন্যদিকে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির
দায়িত্বে আছেন ইসতিয়াক সাদেক, যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের সম্প্রসারণ ও প্রতিভা
বিকাশে কাজ করবেন।বয়সভিত্তিক
ক্রিকেট, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, সেই বয়সভিত্তিক
টুর্নামেন্ট কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ আকবর।মার্কেটিং,
মিডিয়া ও নারী ক্রিকেটে নতুন মুখমার্কেটিং
অ্যান্ড কমার্শিয়াল কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন
সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, যিনি বিসিবির আয় বৃদ্ধি ও স্পনসরশিপ কার্যক্রমে
নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।মিডিয়া
কমিটির প্রধান করা হয়েছে আমজাদ হোসেনকে, যিনি বোর্ডের জনসংযোগ,
গণমাধ্যমের সাথে সম্পর্ক ও সংবাদ প্রচারের দিকটি তত্ত্বাবধান করবেন।
অন্যদিকে,
নারী ক্রিকেটের উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিসিবির সাবেক নির্বাচক খান আবদুর
রাজ্জাককে। নারী উইংয়ের দায়িত্বে তিনি মাঠ পর্যায়ে মেয়েদের ক্রিকেট উন্নয়নে
কাজ করবেন।বিসিবির
স্থায়ী কমিটিগুলোর সম্পূর্ণ তালিকাওয়ার্কিং
কমিটি - আমিনুল ইসলাম বুলবুলগ্রাউন্ডস
কমিটি - আমিনুল ইসলাম বুলবুল (সভাপতি), রাহাত শামস (সদস্য)বিপিএল
গভর্নিং কাউন্সিল - আমিনুল ইসলাম বুলবুল (সভাপতি), ইফতেখার
রহমান মিঠু (সদস্য সচিব)ক্রিকেট
অপারেশন্স - নাজমুল আবেদীন ফাহিমফাইন্যান্স
কমিটি - নাজমুল ইসলাম (সভাপতি), আমজাদ হোসেন (সহসভাপতি)মার্কেটিং
অ্যান্ড কর্মাশিয়াল - শাখাওয়াত হোসেনডিসিপ্লিনারি
কমিটি - ফায়াজুর রহমান মিতুগেম
ডেভেলপমেন্ট - ইশতিয়াক সাদিকটুর্নামেন্ট
কমিটি - আহসান ইকবাল চৌধুরীবয়সভিত্তিক
টুর্নামেন্ট কমিটি - আসিফ আকবরহাই
পারফরম্যান্স কমিটি - খালেদ মাসুদ পাইলটবাংলাদেশ
টাইগার্স প্রোগ্রাম - রাহাত শামসফ্যাসিলিটি
ম্যানেজমেন্ট কমিটি - শানিয়ান তানিম নাভিমআম্পায়ার্স
কমিটি - ইফতেখার রহমান মিঠুমেডিক্যাল
কমিটি - মনজুর আলমটেন্ডার
অ্যান্ড পারচেজ কমিটি - আবুল বাশার (সভাপতি), হাসানুজ্জামান
(সহসভাপতি)মিডিয়া
কমিটি - আমজাদ হোসেনঅডিট
কমিটি - মুখলেছুর রহমান খানউইমেন্স
উইং - খান আবদুর রাজ্জাকলজিস্টিক্স
অ্যান্ড প্রোটোকল - ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালসিকিউরিটি
কমিটি - মেহেরাব আলম চৌধুরীসিসিডিএম
(ঢাকা লিগ কমিটি) - আদনান রহমান দীপন (সভাপতি), ফায়জুর রহমান
(সহসভাপতি)ফিজিক্যাল
চ্যালেঞ্জ কমিটি - জুলফিকুর আলি খানওয়েলফেয়ার
কমিটি - মোকছেদুল কামালনতুন
দায়িত্বে নতুন প্রত্যাশাবিসিবির
এই নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে বিপিএল, নারী ক্রিকেট ও ঘরোয়া কাঠামোতে অভিজ্ঞ প্রশাসক ও সাবেক
ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ততা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।ক্রিকেট
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই কমিটিগুলো নিজেদের দায়িত্ব সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে
পালন করে, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও স্থিতিশীল ও পরিকল্পিত পথে এগিয়ে যাবে।নতুন
সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন,“আমরা
সবাই মিলে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করব। প্রতিটি কমিটির নিজস্ব ভূমিকা থাকবে,
যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ায়।”
বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ডের নতুন এই দায়িত্ব বণ্টন বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এক নতুন
অধ্যায়ের সূচনা করেছে—যেখানে অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব ও উন্নয়নকে একসূত্রে গাঁথার
প্রত্যাশা সবার।