স্টারলিংক বাংলাদেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন
মার্কিনভিত্তিক স্যাটেলাইট
ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশ থেকে
প্রতিবেশী দেশগুলিতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ
কমিশন (বিটিআরসি)কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। এই চিঠিতে তারা দুটি
গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার অনুমতি চেয়েছে—আন্তর্জাতিক প্রাইভেট লিজড সার্কিট এবং আনফিল্টারড আইপি ।বিটিআরসি জানিয়েছে, তারা এ
প্রস্তাব পেয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে।বিটিআরসির
প্রতিক্রিয়াবিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং ও
অপারেশনস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ গণমাধ্যমকে
বলেন,
“আমরা স্টারলিংকের চিঠি হাতে পেয়েছি। এখন সেটি যাচাই-বাছাই চলছে। সরকারের সবুজ
সংকেত পাওয়া গেলে তবেই এ ধরনের সেবা প্রদানের অনুমোদন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
নেয়া হবে।”এর মানে হচ্ছে—চূড়ান্ত
অনুমোদন নির্ভর করছে সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার ওপর।[198]দেশে
গেটওয়ে স্থাপন ও সক্ষমতাস্টারলিংক বাংলাদেশ
ইতিমধ্যেই চারটি লোকাল গেটওয়ে স্থাপন করেছে। এর মধ্যে দুটি রয়েছে গাজীপুরের
হাই-টেক পার্কে, আরেকটি রাজশাহীতে এবং অন্যটি যশোরে।
কলিয়াকৈর
গেটওয়ে চালু হয় ৯ আগস্ট থেকে
রাজশাহী ও যশোর গেটওয়ে
চালু হয় ২০ আগস্ট থেকে
প্রতিটি গেটওয়ের আলাদা ডেটা
হ্যান্ডলিং ক্ষমতা রয়েছে:
কলিয়াকৈর:
৮০ জিবিপিএস
যশোর: ৪০০ জিবিপিএস
রাজশাহী: ৪০০ জিবিপিএস
এই সক্ষমতা বাংলাদেশের বিদ্যমান
ব্যান্ডউইথ নেটওয়ার্কের একটি বড় পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।বাংলাদেশের
ব্যান্ডউইথ পরিস্থিতিবর্তমানে বাংলাদেশের
ব্যান্ডউইথ ব্যবহার প্রায় ৮,৫০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে:
৪,০০০ জিবিপিএস সরবরাহ করছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি পিএলসি সমুদ্রতলদেশীয়
কেবলের মাধ্যমে।
বাকি অংশ আসে ভারতের
সঙ্গে ল্যান্ডলিংক সংযোগ থেকে।
এ ছাড়া, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি
করছে।অতএব, স্টারলিংক যদি অনুমতি
পায়, তবে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির খাতে নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।আঞ্চলিক
প্রেক্ষাপটশিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে,
স্টারলিংকের এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক পরিষেবা বিস্তারের একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা
হচ্ছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি ভারত, নেপাল, ভুটান এবং মিয়ানমারকে
সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ভারত: স্টারলিংক ইতিমধ্যে
ইউনিফাইড লাইসেন্স ও স্পেস রেগুলেটরের ছাড়পত্র পেয়েছে।
নেপাল: কার্যক্রম শুরু করার
প্রস্তাব জমা হয়েছে।
ভুটান: ২০২৫ সালের
ফেব্রুয়ারি থেকে সেবা চালু হয়েছে।
মিয়ানমার: সরকারিভাবে নিষিদ্ধ
হলেও ব্ল্যাকআউট জোনে স্টারলিংকের সেবা পাচার করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়ায়
একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে কাজ করতে পারে।নিরাপত্তা
ও নিয়ন্ত্রণগত উদ্বেগস্টারলিংক যেটি অনুমোদনের
জন্য আবেদন করেছে, তার মধ্যে আনফিল্টারড আইপি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
কারণ এটি এমন একধরনের ইন্টারনেট পরিষেবা যা জাতীয় ফিল্টারিং, পর্যবেক্ষণ এবং আইনত
আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতা বাইপাস করে।এর ফলে:
সাইবার
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও
কনটেন্ট ফিল্টারিং কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ডেটা সুরক্ষা ও নজরদারির
নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
এই কারণে সরকারের অনুমোদন
পেতে হলে স্টারলিংককে কঠোর শর্ত মেনে চলতে হতে পারে।পরবর্তী
ধাপ কী?বর্তমানে পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আগামীতে নজর রাখার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
বিটিআরসি
বা সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন সংক্রান্ত ঘোষণা।
লোকাল গেটওয়েগুলোর
কার্যকারিতা ও বাস্তব ডেটা ট্রাফিক পরীক্ষার ফলাফল।
নিরাপত্তা, লগিং এবং
কনটেন্ট ফিল্টারিং নীতিমালা প্রকাশ।
ব্যান্ডউইথ রপ্তানি হলে
বাংলাদেশের টেলিকম খাতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব।
স্টারলিংকের এই পদক্ষেপ
বাংলাদেশের টেলিকম খাতের জন্য একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে
আনতে পারে নিয়ন্ত্রণগত ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ। সরকারের সবুজ সংকেত ও
প্রয়োজনীয় নীতিমালা নির্ধারণের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে—বাংলাদেশ থেকে
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির নতুন এই অধ্যায় শুরু হবে কি না।