দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা
দক্ষিণ চীন সাগরে একই দিনে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ও একটি যুদ্ধবিমান আলাদা ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। সৌভাগ্যবশত, উভয় বিমান থেকেই সমস্ত ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিট।
রুটিন অপারেশনের সময় দুর্ঘটনানৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, MH-60R সিহক হেলিকপ্টারটি বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে USS Nimitz নামের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে রুটিন অপারেশন চালানোর সময় হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়। দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে উদ্ধারকর্মীরা তিনজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে।এর প্রায় ৩০ মিনিট পর একই ক্যারিয়ার থেকে F/A-18F সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানটিও রুটিন অনুশীলনের সময় বিধ্বস্ত হয়। বিমানের দুই পাইলটই সময়মতো ইজেক্ট করে নিরাপদে উদ্ধার পান বলে নিশ্চিত করেছে নৌবাহিনী।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও প্রাথমিক ধারণামার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই দুর্ঘটনাকে “খুব অস্বাভাবিক” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সম্ভবত এটি জ্বালানির সমস্যা হতে পারে। আমরা তা খতিয়ে দেখছি।”তিনি আরও যোগ করেন, “গোপন করার কিছু নেই, সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হবে।”
চীন-মার্কিন উত্তেজনার পটভূমিগত দুই দশকে চীন দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপ ও প্রবাল প্রাচীরে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।এই অঞ্চলে চীনের দাবির মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখে এবং তাদের মিত্রদের সহায়তা দেয়।
দুর্ঘটনার সময় কূটনৈতিক সফরদুর্ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এশিয়া সফরে ছিলেন এবং তিনি চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বাণিজ্যনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, দক্ষিণ চীন সাগর এখনো সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুরনো বিমানবাহী রণতরী Nimitzদুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা USS Nimitz বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী। নৌবাহিনী জানিয়েছে, আগামী বছর এটি অবসর নেবে।এই বছরই নৌবাহিনী চারটি F/A-18 যুদ্ধবিমান হারিয়েছে—এর মধ্যে দুটি লাল সাগরে ও একটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রশিক্ষণকালে বিধ্বস্ত হয়েছিল।
তদন্ত শুরু ও নিরাপত্তা জোরদারউভয় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্কিন নৌবাহিনী একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি যান্ত্রিক ত্রুটি বা জ্বালানির গুণগত মানজনিত সমস্যা হতে পারে।নৌবাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব ফ্লাইটে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।[806]দক্ষিণ চীন সাগরে এই দুইটি দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা সংবেদনশীল। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।[804]বিশ্বজুড়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ জানতে প্রতিদিন ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ। সত্য তথ্য ও নির্ভরযোগ্য আপডেট পেতে থাকুন আমাদের সঙ্গে।