ছয় ম্যাচে ছয় জয়, বার্নাব্যুতে ফিরলেন কামাভিঙ্গা-বেলিংহাম
ছয় ম্যাচে ছয় জয় রিয়ালের, বার্নাব্যুতে আনন্দের
ঢেউরিয়াল মাদ্রিদ এই মৌসুমে দারুণ ফর্মে
রয়েছে। জাবি আলোনসোর নেতৃত্বে দল এখনো কোনো হার দেখেনি এবং তাদের খেলার ধারাবাহিকতা
অত্যন্ত শক্তিশালী। লা লিগার পঞ্চম ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ বার্নাব্যুতে এস্পানিওলকে
২-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।এই জয়ের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের
ছয় ম্যাচের ধারাবাহিক জয় রেকর্ড নিশ্চিত করল, যা তাদের লা লিগার শীর্ষে থাকার সম্ভাবনাকে
আরও দৃঢ় করেছে। বার্নাব্যুতে দর্শকরা তাদের প্রিয় দলকে এমন শক্তিশালী ফর্মে দেখতে
পেয়ে আনন্দে ভাসছে।ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষভাবে
চোখে পড়েছে মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গা ও বেলিংহাম, যারা খেলায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করছে।
জাবি আলোনসোর কৌশলগত পরিবর্তন এবং দলীয় সমন্বয় রিয়াল মাদ্রিদকে প্রতিটি ম্যাচে সাফল্য
এনে দিচ্ছে।এই জয় শুধুমাত্র তিন পয়েন্ট
নয়, বরং দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে এবং মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আরও ভালো ফলাফল
আনার পথ সুগম করেছে। লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের এ অপরাজিত ফর্ম তাদের শীর্ষে ধরে রাখতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।[73]ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্রম্যাচ: রিয়াল
মাদ্রিদ বনাম এস্পানিওলফলাফল: রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ এস্পানিওলগোলদাতা: এদের মিলিতাও, কিলিয়ান এমবাপ্পেস্টেডিয়াম: সান্তিয়াগো বার্নাব্যুপ্রথমার্ধে মিলিতাওয়ের
ঝলকম্যাচের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদকে বেশ চেপে ধরে এস্পানিওল। রক্ষণভাগে সঙ্ঘবদ্ধ
খেলে তারা রিয়ালকে প্রথম ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।
দর্শকরাও একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন—আজ কি তবে জয়ের ধারায় ভাটা পড়বে? কিন্তু সেই
দুশ্চিন্তা কাটিয়ে ওঠেন এদের মিলিতাও। খেলার ২৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে প্রায়
৩০ গজ দূর থেকে হঠাৎ এক অসাধারণ শট নেন তিনি। বলটি বজ্র গতিতে সোজা জালে জড়িয়ে
যায়। গোলরক্ষক মার্কো দিমিত্রোভিচের কিছুই করার ছিল না। এই গোলেই বার্নাব্যু
স্টেডিয়াম উত্তেজনায় গর্জে ওঠে এবং রিয়ালের খেলায় আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পের ম্যাজিকবিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে রিয়াল মাদ্রিদ। আক্রমণভাগে এমবাপ্পে,
ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগো দারুণ সমন্বয় গড়ে তুলতে থাকেন। এসময় এস্পানিওলের রক্ষণ ভেঙে
যায় একাধিকবার। অবশেষে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে তার স্বভাবসুলভ
ভঙ্গিতে শট নেন। তীক্ষ্ণ ও নিখুঁত এই শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়ে যায়।
যদিও রিয়াল আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল—এমবাপ্পের দুটি শট চমৎকারভাবে
ঠেকান দিমিত্রোভিচ, আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে শেষ
পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল আর পরিবর্তিত হয়নি।আনন্দের বাড়তি কারণএই ম্যাচে জয়ই ছিল রিয়াল সমর্থকদের জন্য প্রধান আনন্দ, তবে এর বাইরেও ছিল
বাড়তি খুশির উপলক্ষ। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরেছেন এদুয়ার্দো
কামাভিঙ্গা ও জুড বেলিংহাম। মাঠে তাদের উপস্থিতি দেখে দর্শকরা উল্লাসে ভাসেন।
অনেকেই মনে করছেন, এই দুই তারকার প্রত্যাবর্তনে রিয়ালের মিডফিল্ড আরও শক্তিশালী ও
প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। কামাভিঙ্গার ডিফেন্সিভ সাপোর্ট এবং বেলিংহামের সৃজনশীলতা
রিয়ালের খেলার মানকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভক্ত ও
বিশ্লেষকরা।রিয়ালের মৌসুমে পরিসংখ্যানলা
লিগা ম্যাচ: ৫জয়: ৫গোল: ১২হজম: ২
লা লিগার শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রিয়াল মাদ্রিদ এখন শীর্ষে
অবস্থান করছে। ৫ ম্যাচে ১২ গোল করা এবং মাত্র ২টি গোল হজম করা তাদের রক্ষণ ও
আক্রমণ—দুটিকেই সমান শক্তিশালী প্রমাণ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফর্ম অব্যাহত
থাকলে রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হয়ে উঠবে।