স্কুল-কলেজের সভাপতির পদ নিয়ে নতুন নির্দেশনা ২০২৫
শিক্ষা ক্ষেত্রে সুশাসন ও
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলোর পরিচালনা পর্ষদে আসছে
এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে
আর সাধারণ কেউ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কেবলমাত্র
সরকারি চাকরিজীবী বা অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য কর্মকর্তাবৃন্দ-ই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন
হবেন। এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচালনা পর্ষদে শৃঙ্খলা আনা এবং শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।নতুন নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদের জন্য প্রার্থীদের
ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে স্নাতক বা সমমান। এছাড়াও, সরকারি চাকরিতে নবম
গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত থাকতে হবে। এই নির্দেশনা নিশ্চিত করবে যে, যারা
প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসবেন, তাদের অন্তত একটি নির্দিষ্ট স্তরের শিক্ষা ও পেশাগত
অভিজ্ঞতা থাকবে।
অন্যদিকে,
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্যও কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্চম
গ্রেডের নিচে নন এমন প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের
কর্মকর্তা অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এটি
বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অভিজ্ঞ এবং কর্মঠ ব্যক্তিদের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত
করার সুযোগ তৈরি করবে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।সময়সীমা ও কমিটি
গঠনের নির্দেশনা:শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সকল
বেসরকারি স্কুল-কলেজে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ গঠন সম্পন্ন করতে হবে। এর পর, ১
ডিসেম্বর থেকে সমগ্র দেশের সকল বেসরকারি স্কুল-কলেজের বিদ্যমান অ্যাডহক (অস্থায়ী)
কমিটিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এর অর্থ হলো, ডিসেম্বর মাস থেকে আর কোনো
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে না। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে
একটি স্থিতিশীল ও নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করবে।কেন এই
পরিবর্তন?আন্তঃশিক্ষা
বোর্ড সমন্বয়ক খন্দোকার এহসানুল কবির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিদ্যমান নিয়মে
কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র সভাপতি পদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য
হবে, পরিচালনা পর্ষদের অন্য পদগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন
যে, এই নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং অধিক দায়িত্বশীল
ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
সুষ্ঠু পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,
সেখানে যোগ্য নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম।প্রেক্ষাপট:গত বছরের
৫ আগস্ট গণ অভ্যুথানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে, গত বছরের ১৮
নভেম্বর সকল বেসরকারি স্কুল ও কলেজে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে, নতুন
সরকারের অধীনে পরিচালনা পর্ষদের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবার নিয়মিত
কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বের অনভিজ্ঞ বা সাধারণ ব্যক্তিদের সভাপতি পদে
আসীন হওয়ার ফলে যে সকল সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই নতুন নীতি
প্রণয়ন করা হয়েছে।ভবিষ্যৎ:
শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর
পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি পদে আর সাধারণ বা অনভিজ্ঞ কেউ দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
কেবল যোগ্য সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই নেতৃত্বে আসবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও
দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, তেমনই অন্যদিকে স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের মতো বিষয়গুলো হ্রাস
পাবে বলে আশা করা যায়। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করবে। এই পরিবর্তন শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা
যায়।