I Love Muhammad বিক্ষোভ: তৌকির রাজার হুমকি উত্তরপ্রদেশকে
উত্তরপ্রদেশ,
উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটসহ ভারতের একাধিক রাজ্যে সম্প্রতি ‘I Love Muhammad’ বিক্ষোভ
ঘিরে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কেন্দ্রে বারবার
উঠে আসছে বিতর্কিত মুসলিম ধর্মগুরু মাওলানা তৌকির রাজা খানের নাম। তিনি
ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিল (IMC) নামক একটি রাজনৈতিক-ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান।
সম্প্রতি তিনি উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার ব্যবস্থা না নিলে মুসলমানরা রাস্তায় নামবে। তার এই
দাবির পেছনের যুক্তি হল, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের মোট
জনসংখ্যার থেকেও বেশি, তাই তাদের আন্দোলনকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।মাওলানা তৌকির
রাজার বিতর্কিত অতীত:আহমেদ রাজা
খান, যিনি বেরেলভি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, তার প্রপৌত্র তৌকির রাজা খান ২০১০ সালের বরেলি দাঙ্গার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এর আগে জ্ঞানবাপি মসজিদ বিতর্কের পর তিনি “জেল
ভরো” আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে সহিংস রূপ ধারণ করে। হলদোয়ানিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় তিনি মুসলিমদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা উল্লেখ
করে সহিংসতার উস্কানি দিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০২৩ সালে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা রুখতে মুসলমানরা ইসলামী
রাষ্ট্র দাবি করতে পারে। তার এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্যের পর কানপুর, কাশীপুর ও
উন্নাওতে সহিংসতা ঘটে, যেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর
এবং বিতর্কিত ‘সার তান সে জুদা’ স্লোগান দেওয়া হয়।[247]কংগ্রেসের
সাথে সম্পর্ক:মাওলানা তৌকির
রাজার এই ধরনের চরমপন্থী অবস্থান সত্ত্বেও, তার সংগঠন IMC কংগ্রেস পার্টির সাথে জোট গঠন করেছিল। ২০০৯
সালে কংগ্রেস ঘোষণা করেছিল যে, লোকসভা নির্বাচনে IMC তাদের সমর্থন দেবে এবং ২০১২ সালের
বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করবে। এই জোট রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক
করেছে।‘I Love
Muhammad’ মিছিলের সূচনা:গত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে কানপুরের রাওয়াতপুর এলাকায় একটি ‘I Love Muhammad’ লাইট বোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
শুরু হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের আপত্তির মুখে পুলিশ বোর্ডটি সরিয়ে নিলেও, পরদিন হিন্দু ধর্মীয় পোস্টার ভাঙচুরের ঘটনায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ এই ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এরপর AIMIM
নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ও অন্যান্য মুসলিম নেতাদের সমর্থনে মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং উত্তরাখণ্ডেও ‘I Love Muhammad’ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলগুলোতেও পাথর নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং সহিংসতার ঘটনা
দেখা যায়।তৌকির রাজার
উস্কানিমূলক বক্তব্য:এই
বিক্ষোভগুলো ঘিরে মাওলানা তৌকির রাজার বারবার উঠে আসা বক্তব্যে স্পষ্ট উস্কানি
লক্ষ্য করা যায়। তিনি মুসলমানদের
রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে
সরকারকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি সহিংসতা বা
আত্মরক্ষার অধিকারকে উস্কানি
হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া, হিন্দু
রাষ্ট্রের দাবিদারদের বিরুদ্ধে
প্রতিশোধ বা ইসলামিক রাষ্ট্রের দাবি তোলার হুমকিও দিয়েছেন। এই সমস্ত কারণে মাওলানা তৌকির রাজা খান বারবার
আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। বর্তমান ‘I Love Muhammad’ ইস্যুতে তার হুমকি ও
আল্টিমেটাম রাজ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে।সামাজিক
প্রভাব ও পরিণতি:উত্তরপ্রদেশের
বিভিন্ন জেলায় অব্যাহত এই সহিংসতার ফলে পুলিশ এবং সাধারণ জনগণ দুশ্চিন্তিত। এর
ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের
মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও, উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণে সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই
যাচ্ছে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরিয়ে
আনতে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ঘটনার মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।