মেঘ ও পাহাড়ের স্বপ্নরাজ্য সাজেক ভ্যালি
সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ: মেঘ, পাহাড় আর সবুজের অপূর্ব সমারোহদৃষ্টি যতদূর যায় শুধু মেঘ আর মেঘ। সবুজ পাহাড়ের গায়ে সাদা মেঘের চাদর যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অপূর্ব ছবি। পাহাড়, মেঘ আর সূর্যের খেলা মিলেই সাজেক ভ্যালি—বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য।ভোরবেলায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয় মেঘ আর পাহাড়ের লুকোচুরি। আর বিকেলের সোনালি আলোয় সাজেক যেন নতুন রূপে ধরা দেয়।
কোথায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালিরাঙামাটি জেলার বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত সাজেক ইউনিয়ন, যা পরিচিত "সাজেক ভ্যালি" নামে। এর আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল এবং উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট। যদিও ভৌগোলিকভাবে এটি রাঙামাটির অন্তর্ভুক্ত, তবে ভ্রমণকারীদের জন্য খাগড়াছড়ি পথই সবচেয়ে সহজ।
সাজেকে পৌঁছানোর পথখাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে পাওয়া যায় সাজেকগামী গাড়ি—জিপ, চান্দের গাড়ি কিংবা সিএনজি। ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর এসকর্ট থাকে, যা ভ্রমণকে করে তোলে আরও নিশ্চিন্ত। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে যেতে যেতে চোখে পড়বে সবুজ পাহাড়, ছোট্ট গ্রাম আর হাসিমুখে হাত নাড়া পাহাড়ি শিশুদের অভ্যর্থনা।সাজেকের দর্শনীয় স্থানগুলো
রুইলুই পাড়াসাজেকের প্রথম গ্রাম। এখানে সারি সারি রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় লুসাই জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর চোখে পড়বে। এখানকার গাছবাড়িগুলো বিশেষ আকর্ষণীয়
হেলিপ্যাডপর্যটকদের কাছে সাজেকের হেলিপ্যাড সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। এখান থেকে একইসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তদেখা যায়। চারপাশে পাহাড় আর মেঘের মায়াজালে ভ্রমণকারীরা হারিয়ে যান সহজেই।
কংলাকপাড়াসাজেক ভ্যালির সর্বোচ্চ চূড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই উপভোগ করা যায়। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে মনে হয়, যেন মেঘের ভেলায় ভেসে আছি।
সাজেক ভ্রমণে কিছু পরামর্শভ্রমণের সময় হালকা গরম কাপড় রাখুন।স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন, তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও নিয়মকানুনকে সম্মান করুন।রিসোর্ট বা কটেজ আগেই বুকিং দিয়ে রাখাই উত্তম।বাংলাদেশে যারা প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখতে চান, সাজেক ভ্যালি হতে পারে তাদের জন্য সেরা ঠিকানা। মেঘ-পাহাড়ের এই রাজ্যে একবার গেলে মন বারবার টেনে নেবে।[37]নতুন নতুন খবর জানতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ অনলাইন নিউজ পোর্টাল।