বাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর মামলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যু মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে।মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলার এজাহার আমলে নিয়ে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যে আদালতের নির্দেশ ও মামলার অগ্রগতিগত সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এটি সালমান শাহের মৃত্যুর তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে।সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যে আদালতের নির্দেশ ও মামলার অগ্রগতিনতুন মামলা এবং অভিযোগএদিনই রাতের মধ্যেই সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।অভিযুক্তদের তালিকানতুন মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে অন্যান্য অভিযুক্তদের নাম, যা নিম্নরূপ:ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইলতিফা হক লুসিচলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনআরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিএই অভিযুক্তদের মধ্যে সামিরা হক প্রধান আসামি হওয়ায় মামলাটি আরো গুরুত্ব পেয়েছে এবং এটি তদন্তের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।তদন্তের নির্দেশনাআদালত রমনা মডেল থানা পুলিশকে এই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি নিশ্চিত করে যে, পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।পরিবারের দাবি ও ২৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষাসালমান শাহর পরিবার ও ভক্তরা বরাবরই বলে আসছেন— “সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।” পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বললেও পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বলেন,“সালমান শাহর বাবা জীবিত থাকতে বহু চেষ্টা করেছেন এই মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে নিতে। অবশেষে ২৯ বছর পর আমরা সেই সুযোগ পেলাম। ইনশাআল্লাহ সত্য প্রমাণিত হবে।”ঘটনার পটভূমি: ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সালমান শাহর মরদেহ।[695][751]প্রথমে এটি অপমৃত্যু বলে ধরা হলেও, পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছেন।চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহের অকাল মৃত্যু এখনো কোটি ভক্তের মনে অমলিন দাগ হয়ে আছে।জনপ্রিয়তা ও উত্তরাধিকারমাত্র সাড়ে তিন বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘সুজন সখি’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘তোমাকে চাই’, ‘বিচার হবে’, ‘বুকের ভিতর আগুন’ প্রভৃতি।এখন চোখ আদালতের পরবর্তী তারিখেপুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে ৭ ডিসেম্বর ২০২৫— তারিখটি হয়তো খুলে দেবে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় রহস্যের পর্দা।বিনোদন জগতের সর্বশেষ আপডেট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন — দৈনিক প্রথম সংবাদ