হারানো বা অতিরিক্ত সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করবেন যেভাবে
এখন থেকে কোনো ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি মোবাইল সিম নিবন্ধন করা যাবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এই নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এর মধ্যে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলোকে। সময়মতো সিম বাতিল না করলে গ্রাহক আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্তবিটিআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সিম রাখলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অবৈধ সিম ব্যবহার রোধ, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা। ২০১৫ সালে এনআইডি-ভিত্তিক সিম নিবন্ধন চালু করা হয়, এবং ২০১৭ সালে একজন ব্যবহারকারীর জন্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত ছিল ১৫টি। কিন্তু বর্তমানে সুরক্ষা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তা কমিয়ে ১০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সিমের সংখ্যা যাচাই করবেন যেভাবেআপনার নামে কতটি সিম নিবন্ধিত আছে তা যাচাই করা খুব সহজ।মোবাইলে *16001# ডায়াল করুন।একটি মেসেজে জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চারটি সংখ্যা চাইবে।তথ্য দেওয়ার পর ফিরতি মেসেজে দেখাবে, আপনার এনআইডিতে কয়টি সিম নিবন্ধিত আছে এবং কোন অপারেটরের।
অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত সিম বন্ধের নিয়মযদি দেখা যায় আপনার নামে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত আছে বা কিছু পুরোনো সিম আর ব্যবহার করছেন না, তাহলে তা বন্ধ করতে হবে।১. হেল্পলাইনে কল করে:যে সিমটি বন্ধ করতে চান, সেটি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের হেল্পলাইনে (যেমন: ১২১) কল দিন।তথ্য যাচাই শেষে সিম বন্ধ করে দেওয়া হবে।২. কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে:হারানো বা অন্য কারও হাতে থাকা সিম বন্ধ করতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যান।সেখানে যাচাইয়ের পর সিম বন্ধ করা হবে।অপারেটরভিত্তিক নির্দেশনাগ্রামীণফোন (GP): ১২১ নম্বরে কল করুন বা নিকটস্থ জিপি সেন্টারে যান।বাংলালিংক: ১২১ নম্বরে যোগাযোগ করুন বা বাংলালিংক সেন্টারে গিয়ে আবেদন করুন।রবি: হেল্পলাইনে কল করুন বা কাস্টমার কেয়ারে যান।এয়ারটেল: *16001# ডায়াল করুন বা কেয়ার সেন্টারে গিয়ে এনআইডির তথ্য দিন।টেলিটক: হারানো বা অব্যবহৃত সিম বন্ধের জন্য হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন বা অফিসে যান।
সিম মালিকানা পরিবর্তনের নিয়মযদি সিম অন্য কাউকে দিতে চান, তবে উভয় পক্ষ- বর্তমান মালিক ও নতুন মালিক কাস্টমার কেয়ারে উপস্থিত থাকতে হবে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি২টি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (প্রয়োজনে)ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের পর মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন হবে।গ্রামীণফোন অনলাইনে সিম মালিকানা পরিবর্তনের সুবিধাও দিয়েছে।
সিম বন্ধ না করলে কী হতে পারেযে সিম আপনি আর ব্যবহার করছেন না, সেটি যদি বন্ধ না করেন- তা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হতে পারে। এই ক্ষেত্রে তদন্তে আপনার নামও জড়িয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, অতিরিক্ত সিম নিবন্ধিত থাকলে নতুন সিম কেনাও সম্ভব হবে না। তাই নিরাপত্তা ও ঝুঁকি এড়াতে সময়মতো অব্যবহৃত সিম বন্ধ করা জরুরি।বিটিআরসি গ্রাহকদের নিজ উদ্যোগে সিম যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত সিম বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।প্রযুক্তি বিশ্বের নতুন সব খবর জানতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ