স্তন ক্যানসার সচেতনতা ২০২৫ ঝুঁকি লক্ষণ ও প্রতিরোধ
স্তন ক্যানসার বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এটি প্রাণঘাতী। এই ক্যানসারে স্তনের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টিউমারে পরিণত হয়। যদিও পুরুষরাও আক্রান্ত হতে পারে, নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন স্তন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়। উন্নত দেশগুলোতে নিয়মিত স্ক্রিনিং, উন্নত চিকিৎসা এবং জনসচেতনার কারণে বেঁচে থাকার হার বেশি। তবে বাংলাদেশ ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ার হার কম হওয়ায় মৃত্যুর হারও বেশি।জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ২০২১ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৩–১৫ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। দেশে নারী ক্যানসার রোগীর মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। ঝুঁকি ফ্যাক্টরবয়স বৃদ্ধি (৪০ বছরের পর ঝুঁকি বেশি)পরিবারে স্তন, জরায়ু বা ডিম্বাশয় ক্যানসারের ইতিহাসহরমোনজনিত সমস্যা বা দীর্ঘ সময় হরমোন থেরাপিসন্তান না হওয়া বা দেরিতে সন্তান জন্মদানসন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানোস্থূলতা ও শারীরিক শ্রমের অভাবধূমপান ও মদ্যপানঅস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস লক্ষণগুলো জেনে নিনস্তনে বা বগলে শক্ত গুটি অনুভব হওয়াস্তনের আকার বা আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তনস্তনের ত্বক মোটা, ভাঁজযুক্ত বা লালচে হওয়াস্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা অন্য তরল নিঃসরণস্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াস্তনে বা বগলে অস্বাভাবিক ব্যথা বা অস্বস্তি প্রতিরোধ ও চিকিৎসাস্তন ক্যানসার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে ঝুঁকি কমানো যায়।প্রতি মাসে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করানিয়মিত ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা৪০ বছর পার হলে প্রতিবছর ম্যামোগ্রাফিস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়ামওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাধূমপান ও মদ্যপান এড়ানোসন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো[596]চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসারের ধরণ, পর্যায়, রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও বয়সের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।