ভাত না রুটি কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
ভাত নাকি রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যকর, এই বিতর্ক বহুদিন ধরেই চলে আসছে। রাতের খাবারে অনেকেই দুটোই খান এবং এটিকে খাদ্যের ভারসাম্য মনে করেন। বাংলাদেশে ভাত, আবার কিছু ভারতের রাজ্যে রুটি প্রধান খাবার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ভাত বা রুটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
ভাত নাকি রুটি- কীভাবে নির্বাচন করবেন?প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ হলো কী ধরনের ভাত বা রুটি খাচ্ছেন। দুটি ক্ষেত্রেই কার্বোহাইড্রেট থাকে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, রুটিতে ভাতের তুলনায় কম কার্বোহাইড্রেট থাকে, তাই স্বাস্থ্যের দিক থেকে রুটি বেশি ভালো।মুম্বাই ভিত্তিক ডায়েটিশিয়ান নাজনীন হুসেন বলেন, “মোটা আটা বা বেশি ফাইবার যুক্ত রুটি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু পুরোপুরি মিহি ময়দার রুটি ভাতের মতোই। শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।”[126]তিনি আরও বলেন, বেশি পালিশ করা চিকন চাল খাওয়া ভালো নয়। বরং পালিশ ছাড়া বা বাদামি চাল স্বাস্থ্যকর। ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি বা দই খাওয়াও শরীরের জন্য উপকারী।
ডায়াবেটিস ও ফাইবারের দিক:দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. এম. ওয়ালি বলেন, “চিকন আটা বা ময়দা খাদ্যাভ্যাসে অনেক সমস্যার কারণ। ভাতের সঙ্গে সবজি খেলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স উন্নত হয়, অর্থাৎ শর্করা ধীরে ধীরে শরীরে মিশে। এভাবে ভাতও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।”
কার জন্য ভাত, কার জন্য রুটি?যাদের দৈনিক শারীরিক পরিশ্রম বেশি, তাদের জন্য ভাত ভালো। আর যারা কম ক্যালোরি খেতে চান বা বসে কাজ করেন, তাদের জন্য ফাইবারযুক্ত রুটি ভালো।ডায়েটিশিয়ান মালা মনরাল বলেন, “রুটি যদি ভালো প্রোটিনের সঙ্গে খাওয়া যায়, তাহলে আরও উপকারী। নিরামিষভোজীরা ডাল বা সবজির সঙ্গে রুটি খেতে পারেন।”
ফ্রিজে রাখা ভাত:নাজনীন হুসেন আরও বলেন, “ফ্রিজে রাখা ভাতের রেসিস্ট্যান্স স্টার্চ ফাইবারে রূপান্তরিত হয়। ফলে খাওয়ার সময় হঠাৎ শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় না।”
অঞ্চলভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস:ডায়েটিক্স বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছোটবেলা থেকে অভ্যস্ত খাবারই হজমের জন্য সহজ এবং তৃপ্তিদায়ক। যেমন, কাশ্মীরের মানুষের জন্য ভাত প্রধান খাদ্য।ভাত এবং রুটির মধ্যে কোনটি খাওয়া উচিত তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক সক্রিয়তা, খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য এবং জীবনধারার ওপর। ফাইবার, শর্করা ও প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রেখে খাদ্য নির্বাচন করলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্ভব।[212]