শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স বনাম আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স দাম ও ফিচার তুলনা
স্মার্টফোন জগতে ফ্ল্যাগশিপ ফোনের প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি শাওমি তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ শাওমি ১৭ উন্মোচন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স। এই ফোনটি সরাসরি প্রিমিয়াম সেগমেন্টের অন্যান্য জায়ান্ট যেমন আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা-এর সাথে টক্কর দিতে প্রস্তুত।আপনি যদি একটি নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন কেনার কথা ভাবছেন এবং শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এই দুটি শক্তিশালী ডিভাইসের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, তাহলে এই ব্লগ পোস্টটি আপনার জন্য। আমরা এই দুটি ফোনের ডিজাইন, ডিসপ্লে, প্রসেসর, ক্যামেরা, ব্যাটারি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো বিশদে তুলনা করব, যাতে আপনি আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সেরা ফোনটি বেছে নিতে পারেন।চলুন দেখে নেওয়া যাক, কে কাকে কতটা ছাপিয়ে যেতে পারল!১. দাম এবং স্টোরেজ অপশন: কোনটির দাম কত?প্রথমেই আসি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক – শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স মূল্য এবং আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স-এর দামের কথায়। এখানে শাওমি একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা নিয়ে এসেছে।ফোনস্টোরেজ ও র্যামদাম (চীনা য়ুয়ান/আইএনআর)রঙের অপশনশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স১২জিবি + ৫১২ জিবি5,999 চীনা য়ুয়ান (~74,700 টাকা)কালো, কোল্ড স্মোক বেগুনি, ফরেস্ট গ্রিন, সাদাশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স১৬জিবি + ৫১২ জিবি৬,২৯৯ চীনা য়ুয়ান (~৭৮,৫০০টাকা)একইশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স১৬জিবি + ১টিবি৬,৯৯৯ চীনা য়ুয়ান (~৮৭,২০০ টাকা)একইআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স২৫৬জিবি১,৪৯,৯০০ টাকাকসমিক অরেঞ্জ, ডিপ ব্লু, সিলভারআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স৫১২ জিবি১,৬৯,৯০০ টাকাএকইআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স১টিবি১,৮৯,৯০০ টাকাএকইআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স২টিবি২,২৯,৯০০ টাকাএকইএক নজরে দেখা যায়, শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম দামে প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স ১অফার করছে। অন্যদিকে, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তার পরিচিত উচ্চ মূল্য ট্যাগ ধরে রেখেছে, যা অনেকের বাজেটের বাইরে হতে পারে। তবে,আইফোন-এর ২টিবি স্টোরেজ অপশনটি যারা সর্বোচ্চ স্টোরেজ চান তাদের জন্য একটি বিকল্প।২. ডিজাইন: উদ্ভাবন বনাম ক্লাসিক প্রিমিয়ামডিজাইনের দিক থেকে উভয় ফোনেই নিজস্বতা রয়েছে।শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স: শাওমি এখানে এক ধাপ এগিয়ে ডুয়াল-স্ক্রিন ডিজাইন নিয়ে এসেছে, যার নাম 'ম্যাজিক ব্যাক স্ক্রিন'। এটি শুধু দেখতে চমৎকার নয়, কার্যকারিতাও বাড়ায়। এই ফোনের সুরক্ষায় রয়েছে ড্রাগন ক্রিস্টাল গ্লাস এবং এটি আইপি৬৮ রেটিং প্রাপ্ত, অর্থাৎ ধুলো ও জল প্রতিরোধক। এর মাপ ১৬২.৯ x ৭৭.৬ x ৮.০ মিমি এবং ওজন ২১৯ গ্রাম। পিছনের ছোট স্ক্রিনটি আপনাকে সেলফি তোলার সময় প্রিভিউ দেখতে, নোটিফিকেশন চেক করতে এবং আরও অনেক কিছুতে সাহায্য করে।আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স: আইফোন তার ঐতিহ্যবাহী ইউনিবডি ডিজাইন ধরে রেখেছে, সঙ্গে রয়েছে পূর্ণ-প্রস্থ ক্যামেরা প্ল্যাটহোল। এর সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে সিরামিক শিল্ড ২ এবং এটিও আইপি৬৮ রেটিং যুক্ত। ফোনটির মাপ ১৬৩.৪ x ৭৮ x ৮.৭৫ মিমি এবং ওজন ২৩১ গ্রাম।পার্থক্য: শাওমি-এর ডুয়াল-স্ক্রিন ডিজাইন ব্যবহারিক দিক থেকে মাল্টিটাস্কিং এবং ফটোগ্রাফিতে নতুন সুবিধা যোগ করে। অন্যদিকে,আইফোন তার ক্লাসিক, স্লিক এবং প্রিমিয়াম ইউনিবডি ডিজাইন দিয়ে ব্যবহারকারীদের নজর কাড়ে।৩. ডিসপ্লে: উজ্জ্বলতা এবং নতুনত্বউভয় ফোনেই অত্যাধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।ফোনপ্রধান স্ক্রিনরিফ্রেশ রেটসর্বোচ্চ উজ্জ্বলতাঅন্যান্য ফিচারসেকেন্ডারি স্ক্রিনশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স৬.৯” এলটিপিও অ্যামোলেড, ১২০০x২৬০৮১২০হার্জ৩৫০০ নিটসএইচডিআর১০+, ডলবি ভিশন, পি৩ গামুট২.৯” ১২০হার্জ, ৫৯৬x৯৭৬ পিএক্সআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স৬.৯” সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি, ১৩২০x২৮৬৮১২০হার্জ১৬০০ নিটসএইচডিআর, ট্রু টোন, পি৩ গ্যামুটনেইপার্থক্য: শাওমি-এর প্রধান ডিসপ্লেআইফোন-এর ডিসপ্লের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ উজ্জ্বল। তবে, মূল আকর্ষণ হলো শাওমি-এর সেকেন্ডারি ডিসপ্লে। এই ছোট স্ক্রিনটি সেলফি তোলার সময় মূল ক্যামেরা ব্যবহার করে উচ্চ মানের ছবি তুলতে, নোটিফিকেশন দেখতে, মিউজিক কন্ট্রোল করতে এবং এমনকি গেমিংয়ের জন্য কন্ট্রোলার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, যাআইফোন-এ অনুপস্থিত।৪. প্রসেসর এবং সফটওয়্যার: অ্যান্ড্রয়েড বনাম আইওএসপারফরম্যান্সের দিক থেকে উভয় ফোনেই তাদের নিজ নিজ অপারেটিং সিস্টেমের সেরা প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে।ফোনপ্রসেসরর্যামস্টোরেজওএসশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্সস্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেনার ৫১৬জিবি১টিবিঅ্যান্ড্রয়েড ১৬ + হাইপারওএস ৩আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সএ১৯ প্রো১২জিবি২টিবিআইওএস ২৬পার্থক্য: শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স সর্বোচ্চ ১৬জিবি র্যাম সহ আসে, যা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মধ্যে একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত। এটি মাল্টিটাস্কিং এবং হেভি অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য দারুণ। অন্যদিকে, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স সর্বোচ্চ 2টিবি স্টোরেজ অফার করে, যা বিপুল পরিমাণ ডেটা সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত। আইফোনের এ১৯ প্রো চিপ এবং আইওএস ২৬-এর অপটিমাইজেশন মসৃণ এবং দ্রুত পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। শাওমি-এর হাইপারওএস ৩ কাস্টমাইজেশন এবং ফিচারের বিচারে ব্যবহারকারীদের উন্নত অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম।৫. ক্যামেরা: ছবির মান এবং মেগাপিক্সেলক্যামেরার ক্ষেত্রে দুটি ফোনেই রয়েছে শক্তিশালী স্পেসিফিকেশন।ফোনপ্রাইমারিআল্ট্রা-ওয়াইডটেলিফটোসেলফিশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স৫০ এমপি৫০ এমপি৫০ এমপি ৫এক্স৫০ এমপিআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স৪৮এমপি৪৮এমপি৪৮এমপি ৪এক্স১৮এমপিদেখা যায়, শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স তার ট্রিপল ৫০ এমপি ক্যামেরা সেটআপ এবং ৫এক্স অপটিক্যাল জুমের মাধ্যমে ফটোগ্রাফিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এমনকি এর সেলফি ক্যামেরাও ৫০ এমপি, যা হাই-রেজোলিউশনের সেলফি তুলতে সক্ষম। অন্যদিকে, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তার ৪৮এমপি ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে দারুণ ছবি তোলে, যদিও মেগাপিক্সেল সংখ্যায় কিছুটা পিছিয়ে। তবে,আইফোন-এর ইমেজ প্রসেসিং এবং কালার সায়েন্স সর্বদা প্রশংসিত।৬. ব্যাটারি ও চার্জিং: কে দীর্ঘস্থায়ী?ব্যাটারি এবং চার্জিং ক্ষমতা আধুনিক স্মার্টফোনের অন্যতম প্রধান দিক।ফোনব্যাটারিচার্জিংওয়্যারলেস চার্জিংরিভার্স চার্জিংশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স৭,৫০০এমএএইচ১০০ওয়াট৫০ওয়াট২২.৫ওয়াটআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স~৫,০৮৮এমএএইচ৪০ওয়াট১৫ ওয়াট ম্যাগসেফনেইপার্থক্য: এখানে শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স সুস্পষ্ট বিজয়ী। একটি বিশাল ৭,৫০০এমএএইচ ব্যাটারি এবং বিদ্যুত-গতির ১০০ওয়াট ওয়্যারড চার্জিং (মাত্র কয়েক মিনিটে পুরো চার্জ!) ও ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের মাধ্যমে শাওমি ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং গতি উভয় ক্ষেত্রেইআইফোন-কে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে।আইফোন-এর ৪০ওয়াট চার্জিং এবং ১৫ ওয়াট ম্যাগসেফ চার্জিং শাওমি-এর তুলনায় বেশ পিছিয়ে। শাওমি-এর রিভার্স চার্জিং ফিচারটিও বেশ কাজের।শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স-এর ডুয়াল-স্ক্রিন: শুধু সৌন্দর্য নয়, কার্যকারিতাওশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স-এর দ্বিতীয় স্ক্রিনটি কেবল একটি স্টাইলিশ ফিচার নয়, এটি অত্যন্ত কার্যকর। এই স্ক্রিনের মাধ্যমে আপনি:প্রধান ক্যামেরা ব্যবহার করে উচ্চ মানের সেলফি তুলতে পারবেন।ফোন না খুলেই গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন চেক করতে পারবেন।সময়, তারিখ এবং আবহাওয়া দেখতে পারবেন।জিয়াওএআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করতে পারবেন।এই উদ্ভাবনী ফিচারটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে এক নতুন মাত্রা দেয় এবং মাল্টিটাস্কিংকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে।এক নজরে প্রধান পার্থক্যবৈশিষ্ট্যশাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্সআইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সদামতুলনামূলকভাবে কমবেশিডিসপ্লেপ্রধান + সেকেন্ডারি স্ক্রিনপ্রধান স্ক্রিনক্যামেরা৫০ এমপি ট্রিপল + ৫০ এমপি সেলফি৪৮এমপি ট্রিপল + ১8এমপি সেলফিব্যাটারি৭,৫০০এমএএইচ~৫,০৮৮এমএএইচচার্জিং১০০ওয়াট ফাস্ট, ৫০ওয়াট ওয়্যারলেস, রিভার্স৪০ওয়াট ফাস্ট, ১৫ ওয়াট ম্যাগসেফর্যাম১৬জিবি১২জিবিস্টোরেজ১টিবি২টিবিOSঅ্যান্ড্রয়েড ১৬ + হাইপারওএস ৩আইওএস ২৬আপনার জন্য কোনটি সেরা?শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ যা ডিজাইন, ডিসপ্লে, ক্যামেরা এবং বিশেষ করে ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের দিক থেকে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এর ডুয়াল-স্ক্রিন ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স মূল্য এটিকে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিকল্প করে তুলেছে।অন্যদিকে, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তার পরিচিত আইওএস ইকোসিস্টেম, শক্তিশালী এ-সিরিজ প্রসেসর এবং সর্বোচ্চ 2টিবি স্টোরেজের মাধ্যমে একটি প্রিমিয়াম এবং নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। যারা অ্যাপল-এর ইকোসিস্টেমের সাথে আবদ্ধ থাকতে চান এবং সর্বোচ্চ স্টোরেজ প্রয়োজন, তাদের জন্যআইফোন একটি আদর্শ পছন্দ।[304][316][317]শেষ পর্যন্ত, কোন ফোনটি আপনার জন্য সেরা হবে তা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং বাজেটের উপর। আপনি যদি একটি উদ্ভাবনী ডিজাইন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং এবং উচ্চ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা সহ একটি শক্তিশালী অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ চান যা তুলনামূলকভাবে কম দামে আসে, তাহলে শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স একটি চমৎকার বিকল্প। আর যদি আপনি অ্যাপল-এর মসৃণ আইওএস অভিজ্ঞতা, সর্বোচ্চ স্টোরেজ এবং ব্র্যান্ড ভ্যালুকে প্রাধান্য দেন, তাহলে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স আপনার জন্য সঠিক পছন্দ।আপনি যেটিই বেছে নিন না কেন, দুটি ফোনই আধুনিক স্মার্টফোন প্রযুক্তির উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।নিয়মিত টেক আপডেট ও প্রয়োজনীয় টিপস জানতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ নিউজ পোর্টাল।