সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আজ শনিবার সকালে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে মাটির হালকা কম্পন টের পাওয়া যায়। কর্তব্যরত কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদের ভাষ্য, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩, আর উৎপত্তিস্থল নির্ধারিত হয়েছে বাইপাইল।২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশে এটি দ্বিতীয় ভূমিকম্প। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, “সাভারের বাইপাইল ছিল ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল। মাত্রা কম থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”এদিনের কম্পনটি ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল; মানুষ শুধু কয়েক সেকেন্ডের একটি হালকা দুলুনির মতো ঝাঁকুনি অনুভব করে। তবুও সকালে ব্যস্ত সময়ে হওয়ায় অনেকে বাড়ি বা দোকান থেকে বের হয়ে আসেন। আগের দিনের ভয়াবহ ঝাঁকুনির পর নতুন করে আতঙ্কএর মাত্র এক দিন আগে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল বাংলাদেশ। সে ঘটনায় নরসিংদীর মাধবদী ছিল উৎপত্তিস্থল, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পটি স্থায়ী ছিল টানা ২৬ সেকেন্ড, যা রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।সেই কম্পনে ঢাকা শহরের বহু ভবনে ফাটল দেখা দেয়; কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে। সবচেয়ে শোচনীয় ছিল প্রাণহানির খবর—তিন জেলায় অন্তত ১০ জন মারা যান এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় বেড়ে যায়, অনেকেই দৌড়ে নেমে আসেন খোলা জায়গায়।দেশের মানুষ এখনো আগের দিনের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই আবারও ঘটে গেল বাইপাইলে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভূমিকম্প বাড়ছে কেন: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাবিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক দুই দিনের ভূমিকম্প দেশজুড়ে টেকটোনিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষত সাভার, নরসিংদী ও ঢাকা অঞ্চলে ভূ-পৃষ্ঠের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে ছোট–বড় কম্পন এখানে প্রায়ই অনুভূত হয়।তাদের ধারণা, সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্পের শকের পর আশপাশের ফল্ট লাইনে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যার ফলে বাইপাইলে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প–এর মতো ছোট ভূকম্পনও দেখা দিচ্ছে। তবে এগুলো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেন গবেষকেরা। কী করণীয়: সাধারণ মানুষের প্রতি জরুরি পরামর্শআবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী—বাড়ির ভেতরে ভারী জিনিসপত্র দেয়ালের সাথে সুরক্ষিত রাখতে হবেপুরোনো বা ফাটলধরা ভবনে অযথা বসবাস না করা ভালোতীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হলে টেবিল বা মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিতে হবেভবন থেকে নামার সময় আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি না করে সিঁড়ি ব্যবহার করা উচিতএ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় গুজব ছড়ানো বা ছড়িয়ে পড়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।[1079]