কী খবর বাহে? বিপিএল ২০২৫-২০২৬ এ রংপুর রাইডার্সের শক্তি ও সম্ভাবনা
উত্তরের হিমেল হাওয়া যখন শরীরে কাঁপুনি ধরায়, ঠিক তখনই বিপিএলের মাঠে উত্তাপ ছড়ায় একটি নাম—রংপুর রাইডার্স। বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘রংপুর’ কেবল একটি দলের নাম নয়, এটি তিস্তা পাড়ের কোটি মানুষের আবেগ। গ্যালারিতে যখন স্লোগান ওঠে, “কী খবর বাহে?”, তখন প্রতিপক্ষও বুঝে যায়—আজ লড়াইটা সহজ হবে না। বিপিএল ২০২৫-২৬ আসরেও নিজেদের ঐতিহ্য, স্থিতিশীলতা আর সক্ষমতার জানান দিতে প্রস্তুত উত্তরের এই প্রতিনিধিরা।
স্থিতিশীলতা: রংপুরের আসল জাদুকরী শক্তিবিপিএলের ইতিহাসে অনেক দল আসে, আবার হারিয়ে যায়। নাম বদলায়, মালিকানা বদলায়। কিন্তু রংপুর রাইডার্স তাদের স্থিতিশীলতা (Stability) ধরে রাখার ক্ষেত্রে অনন্য। তারা হুজুগে দল গড়ার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাসী।ম্যানেজমেন্টের এই ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনাই রংপুরকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করেছে। গত কয়েক আসর ধরে তারা দলের কোর (Core) গ্রুপটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কোচিং প্যানেল থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ওপর তাদের আস্থা অটুট। এই স্থিতিশীলতাই মাঠে তাদের বোঝাপড়াটা সহজ করে দেয়। যখন বিপদের মুহূর্ত আসে, তখন এই পুরোনো বোঝাপড়াই তাদের জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়।
সক্ষমতা ও রণকৌশল: তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার ককটেলএবারের আসরেও রংপুর রাইডার্সের স্কোয়াড বা সক্ষমতার দিকে তাকালে দেখা যায় দারুণ ভারসাম্য। তারা কেবল বড় নামের পেছনে ছোটেনি, বরং কার্যকরী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের ওপর জোর দিয়েছে।১. লোকাল পাওয়ারহাউজ: রংপুর সবসময়ই দেশি প্রতিভাদের গুরুত্ব দেয়। তাদের দলে এমন কিছু তরুণ পেসার এবং হার্ড-হিটার ব্যাটার রয়েছে, যারা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২. স্মার্ট ক্রিকেট: রংপুরের খেলার ধরণ হলো—‘স্মার্ট ক্রিকেট’। তারা চার-ছক্কা মারার পাশাপাশি স্ট্রাইক রোটেট করা এবং ডট বল কমানোর দিকে নজর দেয়। ৩. বোলিং ভ্যারিয়েশন: স্লোয়ার, কাটার এবং স্পিন জাদুতে রংপুরের বোলিং লাইনআপ যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
‘বাহে’দের গর্জন: দ্বাদশ খেলোয়াড়রংপুর রাইডার্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ফ্যানবেস। সিলেট, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম—খেলা যেখানেই হোক, গ্যালারিতে নীল জার্সি আর ‘বাহে’ ডাক শোনা যাবেই। এই সমর্থকগোষ্ঠী দলটির দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করে। কঠিন মুহূর্তে গ্যালারি থেকে আসা এই গর্জন ক্রিকেটারদের রক্তে বাড়তি অ্যাড্রেনালিন যোগায়।
প্রত্যাশা ও শেষ কথাবিপিএল মানেই অনিশ্চয়তা, কিন্তু রংপুর রাইডার্স মানেই লড়াকু মানসিকতা। তারা জানে কীভাবে কামব্যাক করতে হয়। ২০১৭ সালের সেই রূপকথার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতি আজও ভক্তদের মনে তাজা। ২০২৫-২৬ আসরেও রংপুর রাইডার্স মাঠে নামছে কেবল অংশগ্রহণের জন্য নয়, শিরোপাটা উত্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।দলের প্রতি ভক্তদের বার্তা একটাই—মাঠে তোমরা জানপ্রাণ দিয়ে খেলো, গ্যালারি থেকে আমরা চিৎকার করে বলবো, “কী খবর বাহে? আমরা জিততে এসেছি!”[1318]