দেশের আবহাওয়া আবারও পরিবর্তনের পথে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন এক ক্রান্তীয় বৃষ্টি বলয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে “আঁখি”। এটি চলতি বছরের ১৪তম বৃষ্টি বলয় এবং মৌসুম-পরবর্তী প্রথম ক্রান্তীয় বৃষ্টি বলয়। আবহাওয়া সূত্র জানায়, “আঁখি” একটি আংশিক বৃষ্টি বলয়, অর্থাৎ এটি সারাদেশে নয়, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে বেশি সক্রিয় হবে। দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে দেশের রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এই বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হতে পারে। ঢাকা বিভাগে থাকবে বেশ সক্রিয়তা, আর খুলনা ও সিলেট বিভাগে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তুলনামূলকভাবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রভাব কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৯ অক্টোবর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে বৃষ্টি বলয় “আঁখি” প্রবেশ করতে পারে এবং ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগ হয়ে দেশ ত্যাগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ে দেশের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এলাকায় পানি সেচের চাহিদা পূরণ হতে পারে। বৃষ্টি বলয় চলাকালীন সময়ে অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া থাকবে আরামদায়ক, আর টানা বৃষ্টি হওয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়ে ঠান্ডা অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, “আঁখি” একটি সিস্টেমকেন্দ্রিক আংশিক বৃষ্টি বলয়, যার কেন্দ্রকে চোখের মতো ধরা হয়। সেই কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে “আঁখি”। যেহেতু এটি পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয় নয়, তাই চলাকালীন সময়ে দেশের কিছু এলাকায় খুবই কম বৃষ্টিপাত বা বৃষ্টি একেবারেই নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি বলয় সক্রিয় মানে একসাথে সব জায়গায় বৃষ্টি নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বাধিক সক্রিয় অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, আর কম সক্রিয় এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। এ সময় মেঘের অভিমুখ দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে থাকতে পারে, তবে কিছু এলাকায় গতিপথে তারতম্যও হতে পারে।
বাংলাদেশে বৃষ্টি বলয় ‘আঁখি’ চলাকালীন আবহাওয়ার মানচিত্র | ছবি - সংগৃহীত
বরিশাল – ৩০ মিমি, ভোলা উত্তর – ২৫ মিমি, ভোলা দক্ষিণ – ২০ মিমি, বরগুনা – ৪০ মিমি, ঝালকাঠি – ৩৫ মিমি, পটুয়াখালী উত্তর – ৩৫ মিমি, পটুয়াখালী দক্ষিণ – ৩৫ মিমি, পিরোজপুর উত্তর – ৩৮ মিমি, পিরোজপুর দক্ষিণ – ৩৮ মিমি।
বান্দরবান উত্তর ও দক্ষিণ – ২০ মিমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া – ২০ মিমি, চাঁদপুর – ২৫ মিমি, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ – ১৫ মিমি, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ – ৩০ মিমি, ফেনী – ২০ মিমি, রাঙামাটি – ১৫ মিমি ইত্যাদি।
ঢাকা – ৪৫ মিমি, গাজীপুর – ৫০ মিমি, কিশোরগঞ্জ – ৫০ মিমি, টাঙ্গাইল – ৬০ মিমি, রাজবাড়ী – ৪৫ মিমি, মানিকগঞ্জ – ৪৫ মিমি।
দিনাজপুর – ১১৫ মিমি, গাইবান্ধা – ১১৫ মিমি, কুড়িগ্রাম – ১২০ মিমি, লালমনিরহাট – ১১০ মিমি, রংপুর – ১১০ মিমি, ঠাকুরগাঁও – ১০০ মিমি।
জয়পুরহাট – ৮৫ মিমি, নওগাঁ – ৭৫ মিমি, নাটোর – ৫৫ মিমি, রাজশাহী – ৬০ মিমি, পাবনা – ৫৫ মিমি।
জামালপুর – ৯০ মিমি, ময়মনসিংহ উত্তর – ৭৫ মিমি, শেরপুর – ৯০ মিমি, নেত্রকোনা – ৬৫ মিমি।
উত্তর ২৪ পরগনা – ৪০ মিমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা – ৫০ মিমি, দক্ষিণ মধ্য বঙ্গ – ৫৫ মিমি, কলকাতা – ৬০ মিমি, দ্বিঘা – ৬০ মিমি, মেদিনীপুর – ৬৫ মিমি, বাঁকুড়া – ৫৫ মিমি, পুরুলিয়া – ৫০ মিমি, বর্ধমান – ৫০ মিমি, আসানসোল – ৬০ মিমি, বেহরামপুর – ৫৫ মিমি, মালদা – ৭৫ মিমি, রায়গঞ্জ – ১৩০ মিমি, ইসলামপুর – ১২০ মিমি, শিলিগুড়ি – ১০০ মিমি, দার্জিলিং – ৯০ মিমি, জলপাইগুড়ি – ১০০ মিমি, কোচবিহার – ১১০ মিমি।
উত্তর ওডিশা – ৬০ মিমি, পূর্ব উপকূল ওডিশা – ৬৫ মিমি।
উত্তর ঝাড়খণ্ড – ৬৫ মিমি, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড – ৫৫ মিমি, জামশেদপুর – ৫৫ মিমি, রাঁচি – ৫০ মিমি, দুমকা – ৬০ মিমি।
দক্ষিণ বিহার – ৯০ মিমি, পূর্ব বিহার – ১৪০ মিমি, উত্তর বিহার – ১০০ মিমি।
পশ্চিম আসাম – ৯০ মিমি, পশ্চিম-মধ্য আসাম – ৫০ মিমি, মধ্য আসাম – ২০ মিমি, পূর্ব আসাম – ৩০ মিমি, দক্ষিণ আসাম – ২৫ মিমি, চেরাপুঞ্জি – ৬০ মিমি, দক্ষিণ-পশ্চিম মেঘালয় – ১২০ মিমি, পশ্চিম-মধ্য মেঘালয় – ৭০ মিমি, মধ্য ত্রিপুরা – ১৫ মিমি, উত্তর মিজোরাম – ১০ মিমি, দক্ষিণ মিজোরাম – ১৫ মিমি।
এখানে দেওয়া বৃষ্টির পরিমাণ কেবল গড় ধারণা মাত্র; স্থানভেদে এটি কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি অধিক হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় এটি কমও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক কারণের কারণে বৃষ্টি বলয় “আঁখি”-এর সময়সূচি ও শক্তি সামান্য হ্রাস, বৃদ্ধি বা বিলুপ্ত হতে পারে, যা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড় মন্থারের ভবিষ্যৎ গতিপথের উপর।
তথ্যসূত্র: Bangladesh Weather Observation Team Ltd. BWOT

রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫
দেশের আবহাওয়া আবারও পরিবর্তনের পথে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন এক ক্রান্তীয় বৃষ্টি বলয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে “আঁখি”। এটি চলতি বছরের ১৪তম বৃষ্টি বলয় এবং মৌসুম-পরবর্তী প্রথম ক্রান্তীয় বৃষ্টি বলয়। আবহাওয়া সূত্র জানায়, “আঁখি” একটি আংশিক বৃষ্টি বলয়, অর্থাৎ এটি সারাদেশে নয়, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে বেশি সক্রিয় হবে। দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে দেশের রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এই বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হতে পারে। ঢাকা বিভাগে থাকবে বেশ সক্রিয়তা, আর খুলনা ও সিলেট বিভাগে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তুলনামূলকভাবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রভাব কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৯ অক্টোবর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে বৃষ্টি বলয় “আঁখি” প্রবেশ করতে পারে এবং ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগ হয়ে দেশ ত্যাগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ে দেশের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এলাকায় পানি সেচের চাহিদা পূরণ হতে পারে। বৃষ্টি বলয় চলাকালীন সময়ে অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া থাকবে আরামদায়ক, আর টানা বৃষ্টি হওয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়ে ঠান্ডা অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, “আঁখি” একটি সিস্টেমকেন্দ্রিক আংশিক বৃষ্টি বলয়, যার কেন্দ্রকে চোখের মতো ধরা হয়। সেই কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে “আঁখি”। যেহেতু এটি পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয় নয়, তাই চলাকালীন সময়ে দেশের কিছু এলাকায় খুবই কম বৃষ্টিপাত বা বৃষ্টি একেবারেই নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি বলয় সক্রিয় মানে একসাথে সব জায়গায় বৃষ্টি নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বাধিক সক্রিয় অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, আর কম সক্রিয় এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। এ সময় মেঘের অভিমুখ দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে থাকতে পারে, তবে কিছু এলাকায় গতিপথে তারতম্যও হতে পারে।
বাংলাদেশে বৃষ্টি বলয় ‘আঁখি’ চলাকালীন আবহাওয়ার মানচিত্র | ছবি - সংগৃহীত
বরিশাল – ৩০ মিমি, ভোলা উত্তর – ২৫ মিমি, ভোলা দক্ষিণ – ২০ মিমি, বরগুনা – ৪০ মিমি, ঝালকাঠি – ৩৫ মিমি, পটুয়াখালী উত্তর – ৩৫ মিমি, পটুয়াখালী দক্ষিণ – ৩৫ মিমি, পিরোজপুর উত্তর – ৩৮ মিমি, পিরোজপুর দক্ষিণ – ৩৮ মিমি।
বান্দরবান উত্তর ও দক্ষিণ – ২০ মিমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া – ২০ মিমি, চাঁদপুর – ২৫ মিমি, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ – ১৫ মিমি, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ – ৩০ মিমি, ফেনী – ২০ মিমি, রাঙামাটি – ১৫ মিমি ইত্যাদি।
ঢাকা – ৪৫ মিমি, গাজীপুর – ৫০ মিমি, কিশোরগঞ্জ – ৫০ মিমি, টাঙ্গাইল – ৬০ মিমি, রাজবাড়ী – ৪৫ মিমি, মানিকগঞ্জ – ৪৫ মিমি।
দিনাজপুর – ১১৫ মিমি, গাইবান্ধা – ১১৫ মিমি, কুড়িগ্রাম – ১২০ মিমি, লালমনিরহাট – ১১০ মিমি, রংপুর – ১১০ মিমি, ঠাকুরগাঁও – ১০০ মিমি।
জয়পুরহাট – ৮৫ মিমি, নওগাঁ – ৭৫ মিমি, নাটোর – ৫৫ মিমি, রাজশাহী – ৬০ মিমি, পাবনা – ৫৫ মিমি।
জামালপুর – ৯০ মিমি, ময়মনসিংহ উত্তর – ৭৫ মিমি, শেরপুর – ৯০ মিমি, নেত্রকোনা – ৬৫ মিমি।
উত্তর ২৪ পরগনা – ৪০ মিমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা – ৫০ মিমি, দক্ষিণ মধ্য বঙ্গ – ৫৫ মিমি, কলকাতা – ৬০ মিমি, দ্বিঘা – ৬০ মিমি, মেদিনীপুর – ৬৫ মিমি, বাঁকুড়া – ৫৫ মিমি, পুরুলিয়া – ৫০ মিমি, বর্ধমান – ৫০ মিমি, আসানসোল – ৬০ মিমি, বেহরামপুর – ৫৫ মিমি, মালদা – ৭৫ মিমি, রায়গঞ্জ – ১৩০ মিমি, ইসলামপুর – ১২০ মিমি, শিলিগুড়ি – ১০০ মিমি, দার্জিলিং – ৯০ মিমি, জলপাইগুড়ি – ১০০ মিমি, কোচবিহার – ১১০ মিমি।
উত্তর ওডিশা – ৬০ মিমি, পূর্ব উপকূল ওডিশা – ৬৫ মিমি।
উত্তর ঝাড়খণ্ড – ৬৫ মিমি, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড – ৫৫ মিমি, জামশেদপুর – ৫৫ মিমি, রাঁচি – ৫০ মিমি, দুমকা – ৬০ মিমি।
দক্ষিণ বিহার – ৯০ মিমি, পূর্ব বিহার – ১৪০ মিমি, উত্তর বিহার – ১০০ মিমি।
পশ্চিম আসাম – ৯০ মিমি, পশ্চিম-মধ্য আসাম – ৫০ মিমি, মধ্য আসাম – ২০ মিমি, পূর্ব আসাম – ৩০ মিমি, দক্ষিণ আসাম – ২৫ মিমি, চেরাপুঞ্জি – ৬০ মিমি, দক্ষিণ-পশ্চিম মেঘালয় – ১২০ মিমি, পশ্চিম-মধ্য মেঘালয় – ৭০ মিমি, মধ্য ত্রিপুরা – ১৫ মিমি, উত্তর মিজোরাম – ১০ মিমি, দক্ষিণ মিজোরাম – ১৫ মিমি।
এখানে দেওয়া বৃষ্টির পরিমাণ কেবল গড় ধারণা মাত্র; স্থানভেদে এটি কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি অধিক হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় এটি কমও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক কারণের কারণে বৃষ্টি বলয় “আঁখি”-এর সময়সূচি ও শক্তি সামান্য হ্রাস, বৃদ্ধি বা বিলুপ্ত হতে পারে, যা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড় মন্থারের ভবিষ্যৎ গতিপথের উপর।
তথ্যসূত্র: Bangladesh Weather Observation Team Ltd. BWOT

আপনার মতামত লিখুন