Mountain View
মঠবাড়িয়ায় একটি গোপন বিয়ে অতঃপর যা ঘটলো


প্রকাশ : জুন ১১, ২০১৭ , ৮:১২ অপরাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া তিন সন্তানের জননী এক বিধাবা নারীকে গোপনে বিয়ে করলেন ১সন্তানের জনক মিজান নামের এক পল্লী চিকিৎসক (ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান)। মিজানুর রহমান উপজেলার ধানী সাফা ইউনিয়নের সাফা গ্রামের মানিক হাওলাদারের ছেলে। মিজানুর রহমান সাফা বাজারের কাজী রোডে চেম্বার করে নিয়মিত রোগী দেখে আসছিলেন। গত ৭ জুন বুধবার দিবাগত রাতে গ্রামবাসী তাদের অবৈধ সস্পর্ক সন্ধেহে আটক করেন তাদের। ওই নারী ডাঃ মিজানকে স্বামী বলে দাবী করলেও ডাঃ মিজান স্ত্রী হিসাবে ওই নারীকে স্বীকার করেন নি। অভিযোগ উঠেছে ৪লাখ টাকার বিনিময়ে সকলকে ম্যানেজ করলেন ডাঃ মিজান। অতঃপর যা ঘটতে যাচ্ছে ওই নারীর ভাগ্যে। গ্রামবাসি ও ভুক্তভোগী সন্তানের জননী হেলেনা বেগম ও জানান, সম্প্রতি সময়ে তার স্বামী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। তারা পারিবারিক ভাবে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ডাঃ মিজানুর রহমানের কাছে যেতেন। হেলেনা বেগম উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের পন্ডিম বাদুরা গ্রামের মৃতঃ রাশেদ মিয়ার মেয়ে। তিনি আরো জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে পন্ডিম বাদুরা পিতার বাড়িতে বসবাস করে আসছি। গত ৬ মাস আগে ডাক্তার দেখাইতে তার চেম্বারে গেলে ডাঃ মিজান তাকে ভালবাসে বলে জানান। এর পরে অনেক আলাপ চারিতায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ডাঃ মিজান প্রায় সময়ই গভীর রাতে আমার কাছে আসতো এবং খুব সকালে চলে যেতেন। গত দুমাস আগে আমাকে নিয়ে পিরোজপুর গিয়ে কোর্ট কাবিনের মাধ্যমে মিজান আমাকে বিয়ে করেন। এর পরেও সে পালিয়ে আমার কাছে আসতো। আমি তাকে প্রকাশ্যে আসার জন্য অনুরোধ করি। জবাবে সে জানায় কোর্ট কাবিনের টিকিট আমার কাছে আছে। তিন মাস পরে কাবিনটি প্রকাশ হবে, তাছাড়া আমার স্ত্রী সন্তান আছে, স্ত্রী মাস্টারী করে, আস্তে-আসেÍ পরিবেশ শান্ত করে আমি প্রকাশ্যে তোমার কাছে আসবো। আমি সরল মনে তার সব কথা আজ পর্যন্ত বিশ্বাস করি। এদিকে আমার মা আমাদেরকে স্থানীয় মাদ্রাসার হুজুর দেলোয়ার হোসেনকে ডেকে এনে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে দেন। এর পরেও সে রাতের আধাঁরে আমার কাছে আসতো এবং খুব সকালে চলে যেত। তার অনুরোধে আমাদের বিয়ের বিষয়টি আমি সবার কাছে গোপন রেখেছি। এদিকে তার গোপনে আসা যাওয়াটা গ্রাম বাসির মধ্যে সন্দেহের সৃস্টি করে। সে আলোকে গত ৭ জুন বুধবার রাতে আমার বাবার বাড়িতে গ্রামবাসি তাকে আটক করে। এক পর্যায় গ্রামবাসি তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমি তখন তাদেরকে জানাই কোর্ট কাবিন ও শরিয়াহ মোতাবেক আমাদের বিবাহ হয়েছে। কিন্তু ডাঃ মিজান মুহুর্তে সব কিছু অস্বীকার করে। এসময় গোটা এলাকায় হট্টোগোলের সৃস্টি হয়। আমাদের এলাকার লোকজন ডাঃ মিজানকে  স্থানীয় চৌকিদার শাহআলমের কাছে হস্তান্তর করে। চৌকিদার পরিস্থিতির বেগতি দেখে মঠবাড়িয়া থানায় সংবাদ দেন। ইতোমধ্যে তার এলাকা থেকে ৭০/৮০ জন লোক তিনি সংবাদ দিয়ে এনেছেন। পুলিশ আসার আগেই ডাক্তারের এলাকার লোকজন চৈকিদারের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেন। গভীর রাতে স্থানীয়  বাদুরা বেগম শেখ ফজিলাতুননেছা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালামের নেতৃত্বে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি এক পর্যায় ধামাচাপা দেওয়া হয়। গ্রামবাসিদের অভিযোগ কালাম মাওলানাই ঘটনাটি নিয়ে গড়িমসি করেছেন। রাত আড়াইটার দিকে চৌকিদার ও লোক পাঠিয়ে সাদা কাগজে ওই নারীর সহি নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় চৌকিদার শাহআলম জানান, রাত দেড়টার দিকে কিছু লোক আমার ঘরের দরজার কড়া  নাড়া দেয় এবং আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। আমি বাড়িতে নাই বলে তাদেরকে আমার স্ত্রী জানান। আমার স্ত্রী মনে করেছিলো সন্ধ্যার ওই ঘটনায় আমি আবার কারো শত্রু হলাম কিনা? ভিতরে বসে আমি তাদের কথা শুনি।  পরিচিত মনে হলো তাই দরজা খুলে দেই। দরজা খুলে দেওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় বাদল শরীফ, টুকু, মিজান শরীফ,আলামিন জমাদ্দার আমার ঘরে প্রবেশ করেন। তারা আমাকে বলেন, এই সাদা কাগজে হেলেনার দস্তখাত এনে দিতে হবে। রাত গভীর আমি এনে দিতে পারবো না বললে তারা জোর করে আমাকে ওই নারীর বাড়িতে নিয়ে গেল। এক পর্যায় তার (হেলেনা) সহি গ্রহণ করে কাগজটা কালাম মাওলানার কাছে জমা দিয়ে আমি বাড়িতে চলে আসি। ৪লাখ টাকার বিনিময় ফয়সালা সম্পর্কে তিনি জানান,আমিও অর্থনৈতিক লেনদেনের কথা শুনেছি। তবে কারা করছে সে ব্যাপারে আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে জানতে বাদুরা বেগম শেখ ফজিলাতুননেছা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম‘র নিকট মোবাইল করলে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন। তিনি ক্ষিপ্ত স্বরে বলেন, এঘটনায় সাংবাদিকদের কি? মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, চৌকিদারের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো পুলিশ ওই নারীকে থানায় আসার পরামর্শও দিয়েছিলেন। অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আমাকে মোবাইলে জানিয়ে ছিলো বিষয়টি তিনি মিমাংসা করে দিবেন। যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, সেহেতু মিমাংসার প্রস্তাবে প্রতিবাদ করিনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।



পুরোন সংবাদ দেখুন

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK