এনসিপি এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তৈরি হলো নতুন সমীকরণ। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে রবিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনটি রাজনৈতিক দল মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা করেছে এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন জোটের আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে এবং রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনমত তৈরি, অর্থনৈতিক মুক্তির ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং জাতীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই এই জোট গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রকে একটি আধুনিক, মর্যাদাবান ও স্থিতিশীল কাঠামোর দিকে এগিয়ে নিতে তিন দল হাতে হাত মিলিয়েছে। নেতারা বলেন, জনমানুষের দাবি ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার সময় এসেছে, আর সেই প্রয়োজন থেকেই এই জোটের জন্ম।সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি কেবল একটি নির্বাচনি জোট নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক জোট, যার লক্ষ্য রাষ্ট্র সংস্কারের ধারাবাহিক পথে অগ্রসর হওয়া। তিনি জানান, এই ঐক্য প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং আরও কিছু দল, সংগঠন, প্ল্যাটফর্ম ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শিগগিরই এই জোটে যুক্ত হতে পারেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে লড়াই করেছি, তারা একটি অভিন্ন লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছি। দেশের রাজনীতিকে পুরোনো ধ্যানধারণায় ফিরতে দেব না।”ঘোষণা অনুষ্ঠানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের আহ্বান জনগণ তুলেছিল, সেই দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং পুরোনো রাজনৈতিক প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই জোট গঠন করা হয়েছে।নেতারা আরও বলেন, আগামীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে এবং অর্থনৈতিক মুক্তিকে সামনে রেখে সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি নতুন রাজনৈতিক মেরু তৈরি করার লক্ষ্যও তুলে ধরেন তারা। তাদের আশা, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সক্রিয় থাকা অন্যান্য দল ও প্ল্যাটফর্ম ধীরে ধীরে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হবে।বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন জোটের আবির্ভাব রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে। তিনটি উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তির এই সমন্বয় ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এই জোট একটি বিকল্প ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের এই নতুন জোট, ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই জোটের কার্যক্রম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে, এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে আরও গতিশীল করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।[1203]